ডায়াবিটিস এখন ঘরে ঘরে পরিচিত এক সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ—এই সব মিলিয়ে কম বয়সেই অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। ডায়াবিটিস শুধু একা আসে না, এর সঙ্গে জুড়ে যায় কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের মতো নানা জটিলতা। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায়ও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল মেথির বীজ। রান্নাঘরের এই পরিচিত মশলাটি শুধু স্বাদ বাড়ায় না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর বলে মনে করেন পুষ্টিবিদেরা।
মেথিতে রয়েছে থায়ামিন, ফোলিক অ্যাসিড, রাইবোফ্ল্যাভিন, নিয়াসিনের মতো ভিটামিন। পাশাপাশি পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজও পাওয়া যায় এতে। এই সব উপাদান শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে।
তবে প্রশ্ন হল, মেথি কী ভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়? অনেকেই রাতে মেথির দানা জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল পান করেন। আবার কেউ কেউ মেথি জলে ফুটিয়ে খান। এই দুই পদ্ধতির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
মেথির দানা সারারাত ভিজিয়ে রাখলে এর পুষ্টিগুণ ধীরে ধীরে জলে মিশে যায়। এই পানীয় হালকা হয় এবং সহজে হজম হয়। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, অ্যাসিডিটি কমায় এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্যও এই পানীয় উপকারী।
অন্যদিকে, মেথি জলে ফুটিয়ে খেলে এর সক্রিয় উপাদান বেশি পরিমাণে বেরিয়ে আসে। ফলে এই পানীয় কিছুটা গাঢ় ও তেতো হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং সর্দি-কাশি, প্রদাহ বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের জন্য ভেজানো মেথির জলই বেশি উপযোগী। কারণ এতে প্রাকৃতিক এনজাইম বজায় থাকে এবং শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে, স্বল্প সময়ের বিশেষ প্রয়োজনে—যেমন সর্দি-কাশি বা শরীর পরিষ্কার রাখতে—ফোটানো মেথির জল খাওয়া যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ডায়াবিটিস রোগীদের নিয়মিত এই ধরনের কোনও পানীয় খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে অন্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সুতরাং, সঠিক নিয়ম মেনে মেথি খেলে তা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, তবে সচেতনতা এবং পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুন: Egg Yolk: ডিমের কুসুম খেলে কি সত্যিই বাড়ে কোলেস্টেরল? ভুল ধারণা ভাঙছেন পুষ্টিবিদেরা
Image source-Google