ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময়েই বিজেপি নেতা ও বলিউড তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে (Mithun Chakraborty) নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও ব্যক্তিগত অনুভূতি ও পেশাগত স্মৃতির জায়গায় যে আলাদা সমীকরণ কাজ করে, তা এদিন স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগে ভেসে যেতে দেখা যায় রচনাকে।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের রণকৌশল, বিএলএ-দের ৮ দফা দাওয়াই মমতার
একদিকে যখন বিজেপির (BJP) ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ উপলক্ষে মানকুণ্ডুতে আসছেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty), অন্যদিকে তখনই সেই প্রসঙ্গে রচনার বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। রাজ্যের ভোটমুখী পরিস্থিতিতে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের দুই পরিচিত মুখকে ঘিরে এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনই বিনোদন জগতের ভক্তদের মধ্যেও আলোচনার ঝড় তুলেছে।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) প্রতি তাঁর সম্মান ও ভালোবাসা বহুদিনের। তিনি বলেন, মিঠুনকে তিনি কখনও রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেননি, বরং একজন শিল্পী হিসেবেই তাঁর চোখে মিঠুন বরাবর আলাদা জায়গা দখল করে রেখেছেন। রচনার কথায়, বাঙালি হয়েও যেভাবে মিঠুন চক্রবর্তী গোটা দেশের বিনোদন জগতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা অনন্য। তাঁর মতে, মহানায়কের পরে ভারতবর্ষ জুড়ে যাঁরা আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন, তাঁদের মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তী অন্যতম।
এই বক্তব্যের পাশাপাশি পুরনো দিনের স্মৃতিচারণাও করেন রচনা। একসঙ্গে কাজ করার সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একাধিক ছবিতে মিঠুন তাঁর নায়ক ছিলেন এবং সেই সময়ের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অমূল্য। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীর কৃতিত্বের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। রচনার মতে, একজন শিল্পীর পরিচয় ও অবদান রাজনৈতিক পরিচয়ের অনেক ঊর্ধ্বে।
রাজনীতি প্রসঙ্গে রচনা বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ সেই কারণে মুছে যায় না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকলেও মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর কাছে বরাবরই অত্যন্ত প্রিয় ও সম্মানীয় একজন মানুষ। ভোটের আবহে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের দ্বন্দ্বই হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।