মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপি ও মহাজুটির বড়সড় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার সন্ধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, এই জয় আসলে “উন্নয়নের রাজনীতির” পক্ষে জনতার স্পষ্ট সমর্থনেরই প্রতিফলন। মোদির মতে, মহারাষ্ট্রের মানুষ দ্বিধাহীনভাবে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং সেই কারণেই বিজেপি ও মহাজুটির উপর ফের আস্থা রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) তাঁর বার্তায় লেখেন, পৌর পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি (BJP) এবং মহাজুটিকে বিপুল সমর্থন দেওয়ার জন্য তিনি রাজ্যের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ। এই রায় সরকারের জনমুখী উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উপর মানুষের বিশ্বাসকে আরও মজবুত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মোদি আশ্বাস দেন, আগামী দিনে সরকার আরও বেশি উদ্যম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে, যাতে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন পূরণ করা যায়। তৃণমূল স্তরে বিজেপি ও মহাজুটির কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম ও সংগঠনের শক্তিরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের মোট ২৮৬টি নগর পরিষদ ও পঞ্চায়েতের মধ্যে ১২৯টিতেই দখল নিয়েছে বিজেপি। এই ফলাফলকে “রেকর্ড সাফল্য” বলে উল্লেখ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। তিনি জানান, সারা রাজ্যে প্রায় ৩৩০০ জন বিজেপি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, যা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ।
ফড়ণবীস বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব যে আস্থা দলের উপর রেখেছিলেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে তাঁরা সন্তুষ্ট। তিনি আরও জানান, এবারের প্রচারে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও বিরোধী দল বা নেতার সমালোচনায় যাননি। বরং সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কাজগুলিই মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন। সম্পূর্ণ ইতিবাচক প্রচারের ফলেই জনগণের সমর্থন পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, এই ফলাফল কংগ্রেস ও শিবসেনা শিবিরে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছে। তারা পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেস নেতা হর্ষবর্ধন সপকল বিজেপির সহযোগী দলগুলিকে উদ্দেশ করে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই জয় একনাথ শিণ্ডে ও অজিত পাওয়ারের জন্য সতর্কবার্তা, কারণ ভবিষ্যতে বিজেপির রাজনীতিতে এই শরিক দলগুলির অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে।