ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari statement)। তাঁর দাবি, “ভোটার তালিকা সংশোধনের ইতিহাসে এই প্রথম ভারতের নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ করল।” কমিশনের নির্দেশে সাতজন সহকারী নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিক (AERO) সাসপেন্ড হওয়ার পরই তিনি এই প্রতিক্রিয়া দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari statement) অভিযোগ, সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকরা সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে এবং কমিশনের গাইডলাইন অগ্রাহ্য করে ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট ও প্যান কার্ডের মতো নথি গ্রহণ করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে কমিশন চাইলে আগামী দিনে দোষীদের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও করতে পারে।”
বিরোধী দলনেতার আরও দাবি, এই অনিয়ম কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; জেলাশাসকদের চাপ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরের ইঙ্গিতেই গোটা প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়েছে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-এর নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী সংক্রান্ত ফাইল প্রোটোকল ভেঙে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকেই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে—যা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে সচরাচর দেখা যায় না।
‘ফর্ম-৭’ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, বিহার বা অন্যান্য রাজ্যে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে তা মানা হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ার আড়ালে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী ও অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাতজন সহকারী নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ পাঠানো হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় গত শুক্রবার দিল্লিতে তলব করা হয় মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সশরীরে হাজির হয়ে তাঁকে একাধিক নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়। এরপরই কমিশনের তরফে চূড়ান্ত সাসপেনশন নির্দেশ জারি করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল।
আরো দেখুন:https://newz24hours.com/2026/02/16/rg-kar-financial-irregularities-ed-chargesheet-approval-delay/