বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভিযোগ, বাংলাদেশের ঘটনাকে হাতিয়ার করে বাংলায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya)। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বারুইপুর পুলিশ জেলার নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অমিত মালব্য এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বাংলাদেশের হিংসাত্মক ঘটনার ভিডিও ও মন্তব্য শেয়ার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য বাংলার মানুষ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতি অবমাননাকর। তন্ময়ের দাবি, এই ধরনের পোস্ট দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষেও বিপজ্জনক। সেই কারণে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় অমিত মালব্যের (Amit Malviya) বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে ওপার বাংলায়। ঢাকাসহ একাধিক শহরে শোক মিছিল ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে হিংসাত্মক রূপ নেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দফতরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনার কিছু ভয়াবহ ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অমিত মালব্য।
ভিডিও পোস্টের সঙ্গে মালব্য দাবি করেন, বাংলাদেশে মৌলবাদীদের প্রভাব যেভাবে বাড়ছে, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও নাকি তেমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থাকে আক্রমণ করে বলেন, এই ধারা চললে রাজ্যের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে পড়বে।
এই মন্তব্যকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “বাংলাদেশের ঘটনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে তুলনা করা সরাসরি প্ররোচনা। এটা রাজ্যকে অপমান করার শামিল।” পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, ভারতীয় নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকারকেই কূটনৈতিক স্তরে পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: বিজেপি মুখ হিসেবে শুভেন্দুর সম্ভাবনা? শমীকের বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক