লিয়োনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলাকে ঘিরে যে ভাবে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে নিশানা করা হচ্ছে, তা একেবারেই অযৌক্তিক—এমনই দাবি করলেন রাজ চক্রবর্তী। রবিবার আনন্দবাজার ডট কম-এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন তুললেন, “শাহরুখ খান সুযোগ পেয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তুললে সমস্যা নেই, তা হলে শুভশ্রী কী অপরাধ করল?”

 

স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে রাজ জানান, শুভশ্রী শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, তিনি একই সঙ্গে একজন মানুষ, একজন নারী এবং একজন ফুটবলপ্রেমী। তাঁর কথায়, “একজন মানুষের পরিচয় কখনও একমাত্রিক হয় না। শুভশ্রী মা, বোন, স্ত্রী, অভিনেত্রী, বন্ধু—এর পাশাপাশি সে একজন ভক্তও। প্রিয় খেলোয়াড়কে সামনে থেকে দেখার অধিকার কি তার নেই?” রাজের সাফ বক্তব্য, ভবিষ্যতেও সুযোগ পেলে শুভশ্রী মেসিকে দেখতে যাবেন।

 

শনিবার আনন্দবাজার ডট কম-কে রাজ জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে ওই দিন মাঠে যাননি। লিয়োনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য যে ভাবে শুভশ্রীকে সমাজমাধ্যমে হেনস্থা করা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। শনিবার দিনভর কটাক্ষে বিদ্ধ হয়েছেন অভিনেত্রী। রবিবার সেই প্রতিটি আক্রমণের জবাব দেন রাজ।

 

প্রথমেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ। আয়োজকদের কাঠামোগত ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে তিনি লিখেছেন, “এই অরাজকতা ফুটবল ও ফুটবলপ্রেমী বাঙালির অপমান। এত বড় তারকার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে আয়োজকেরা কি আদৌ সচেতন ছিলেন না? অতীত অভিজ্ঞতা থেকেও কি কোনও শিক্ষা নেওয়া হয়নি?”

 

এর পরেই তিনি একে একে প্রশ্ন তুলেছেন শুভশ্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি নিয়ে। রাজের বক্তব্য, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যদি শুভশ্রী এমন জায়গায় পৌঁছোন, যেখানে আন্তর্জাতিক তারকার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান, তা হলে সেখানে অন্যায় কোথায়? টলিউডের প্রতিনিধি হিসেবে যদি তাঁকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়, তাতেও দোষের কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি।

 

রাজ আরও বলেন, শুভশ্রী ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেশনে মেসির সঙ্গে দেখা করে ছবি তুলেছেন। মাঠে ঢুকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেননি। অথচ অনেকে মাঠে দাঁড়িয়ে একের পর এক ছবি তুললেও তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। কেন শুধুমাত্র শুভশ্রীই লাগাতার আক্রমণের মুখে—এই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অভিনেত্রীর পারিবারিক পরিচয় কিংবা শারীরিক গঠন নিয়েও যে কটূক্তি করা হয়েছে, তাকে নিন্দনীয় বলেই উল্লেখ করেছেন রাজ।

 

এই প্রসঙ্গে রাজ বারবার লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, নারী বলেই শুভশ্রী ‘সহজ লক্ষ্য’। তিনি বলেন, “তিনি তারকা না হলেও একই পরিস্থিতিতে কোনও সাধারণ তরুণীকেও এ ভাবে কটাক্ষের শিকার হতে হত। নারী মানেই সমাজমাধ্যমে আক্রমণের সফ্‌ট টার্গেট।”

 

একই সঙ্গে যাঁরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন রাজ। তবে তাঁর ক্ষোভ সেই সব মানুষের প্রতি, যাঁরা ঘরে বসে সমাজমাধ্যমে অভিনেত্রীকে ঘিরে কুৎসিত মন্তব্য করছেন।

 

রাজের বক্তব্য ঘিরে উঠছে আরও প্রশ্ন—স্বপ্নপূরণ না হলে কি কোনও মানুষকে এ ভাবে অপমান করা যায়? তারকারা কি জনপ্রিয় বলেই সহজ নিশানা? রাজের মতে, “ঠিক সেটাই হচ্ছে। খ্যাতনামীদের উপর আক্রমণ দ্রুত ছড়ায় বলেই তাঁদের টার্গেট করা হয়।”

 

এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের উল্লেখ করে রাজ বলেন, “শুভশ্রী অভিনেত্রী বলে মাঠে যাওয়ার অধিকার নেই—এই যুক্তি মানলে আমিও বলতে পারি, রাজনীতিবিদদের বিশ্বকাপ দেখার কী দরকার? কিন্তু এ ভাবে কাউকে ছোট করা যায় না।”

 

সব শেষে রাজের স্পষ্ট দাবি, শুভশ্রী নারী বলেই এই মাত্রার হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তাঁর জায়গায় টলিউডের অন্য কোনও অভিনেত্রী থাকলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হত। শুভশ্রী-মেসি ঘটনা আসলে উপলক্ষ মাত্র—আসল সমস্যা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি।

আরও পড়ুন: Raj Chakraborty: মেসিকাণ্ড ঘিরে শুভশ্রীকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’, থানায় অভিযোগ রাজ চক্রবর্তীর

Image source-Google

By Torsha