নাম সৌমেন চক্রবর্তী। মেদিনীপুরের ছেলে, পড়াশোনা করেছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ তিনি মঞ্চের চেনা মুখ, সিরিজ ও সিনেমাতেও নিয়মিত দেখা মিলছে তাঁর। টলিপাড়ায় এখন কানাঘুষো— সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নাকি নতুন ‘ব্লু-আইড বয়’ তিনিই!

 

কেন এই গুঞ্জন? কারণ দুইটি। এক, ‘দুর্গ রহস্য’ ও ‘কিলবিল সোসাইটি’তে কাজ করার পর এবার সৃজিতের নতুন ছবি *‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’*-এ অভিনয় করছেন তিনি। দুই, টলিউডের মতে, সৌমেন নাকি দেখতে ও শুনতে একেবারে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো!

 

ফোন ধরতেই ওপার থেকে ভেসে এল স্পষ্ট উচ্চারণে, “নমস্কার, আমি সৌমেন চক্রবর্তী।” কথা শুরু করার আগেই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন— “আমি তো দ্বিতীয় অনির্বাণ ভট্টাচার্য, তাই না?” তারপরই এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস। “জন্ম, চেহারা, গলার স্বর— এত মিল যে আমিও আর কী করব বলুন! শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছি,” বললেন অভিনেতা।

 

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল নায়ক হওয়ার। গড়বেতা থেকে গরুর গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাওয়া সেই ছেলে ঠিক করেছিল— একদিন মুম্বই গিয়ে বলিউডে কাজ করবে। সে ইচ্ছা আজও আছে, তবে বয়সের প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেতার হালকা হাসি, “২০ বছর হলে হয়তো আজই চলে যেতাম। বাংলাতেই এখনও মাটিটা শক্ত করে দাঁড়াতে পারিনি, বলিউডে গেলে আবার শুরু থেকে শুরু করতে হবে।”

 

তাঁর মনে মাঝে মাঝেই প্রশ্ন জাগে— অনির্বাণের সঙ্গে এই অদ্ভুত মিলই কি তাঁকে পিছিয়ে দিচ্ছে? পরীক্ষায় ভাল অভিনয় করেও শোনেন— “অনির্বাণের মতো লাগে।” নতুন চরিত্রের জন্য অডিশন দিলেও মাঝে মাঝে শেষ ডাকটা আর আসে না।

 

তবে ছবিটা একেবারে নেতিবাচক নয়। ব্রাত্য বসুর ‘হুব্বা’ ও ‘কালরাত্রি’, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘একটু সরে বসুন’— সব জায়গাতেই নিজের অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন সৌমেন। মঞ্চে তাঁর কাজ দেখার পর অনেকেই বুঝতে পারছেন, অনির্বাণ ও সৌমেনের অভিনয়ভঙ্গি আসলে আলাদা। দর্শকরাও আবার তাঁর নাটক দেখতে ফিরছেন— তাঁকে, অর্থাৎ ‘সৌমেন’কে দেখার জন্য।

 

সেই কারণেই হয়তো সৃজিতও তাঁকে আবার কাজের ডাক দিয়েছেন। “তিনি আমাকে কখনও ‘বিকল্প’ মনে করেননি,” বললেন অভিনেতা। “কোনও তারকার ছায়া হয়ে থাকলে গর্ব হত, যদি আমি তাঁকে নকল করতে চাইতাম। কিন্তু আমি কাউকে অনুসরণ করি না। তাই তুলনা শুনলে মনটা খারাপ হয়।”

 

অনির্বাণ-ফেডারেশন বিতর্কে কেউ কেউ বলছেন, এখনই হয়তো সৌমেনের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে অভিনেতার সোজাসাপ্টা জবাব— “আমি কারও জায়গা কেড়ে নিতে চাই না। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে সেটা মানায় না। নিজের জায়গা নিজেকেই বানাতে হয়।”

 

রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই কণ্ঠস্বর একটু শীতল। “আমার কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। রাজনীতি থেকে দূরেই থাকি,” জানিয়ে দিলেন তিনি।

 

ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন— জানতে চাইতেই হাসলেন। “নাম অবশ্যই শুনেছি, কিন্তু কখনও আলাপ হয়নি। মন দিয়ে কাজ করলে কাজ আসবেই— এটুকুই বিশ্বাস,” বললেন সৌমেন।

আরও পড়ুন: Skincare: বিয়ে আসন্ন? এখন থেকেই শুরু করুন ধাপে ধাপে ত্বকের যত্ন, ঘরোয়া উপায়েই মিলবে নিখুঁত জেল্লা

By Torsha