ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য। বিহারের (Bihar SIR) বিশেষ ভোটার তালিকা পর্যালোচনার সময় কমিশন দেখেছে, সর্বাধিক নাম বাদ পড়েছে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও নেপালের সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলগুলি থেকে। এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে গোপালগঞ্জ, পূর্ণিয়া, কিশানগঞ্জ, কাটিহার এবং আরারিয়ার মতো জেলাগুলি।
তথ্য বলছে, বিহারের (Bihar SIR) ৩৮টি জেলায় ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মোট ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যার মধ্যে একমাত্র গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই বাদ পড়েছে ১৫.১% ভোটার। তালিকায় এরপরেই রয়েছে পূর্ণিয়া (১২.০৮%) ও কিশানগঞ্জ (১১.৮২%)। কাটিহার থেকে ৮.২৭% এবং আরারিয়া থেকে ৭.৫৯% নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে মুসলিম জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, কিশানগঞ্জে ৬৭.৮৯%, কাটিহারে ৪৪.৪৭%, আরারিয়ায় ৪২.৯৫% এবং পূর্ণিয়ায় ৩৮.৪৬% মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। এই প্রেক্ষাপটে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নাম বাদ দেওয়ার পিছনে যে কারণগুলি দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল:
স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন – ৩৯.২৯%, মৃত – ৩৩.৫৭%, খোঁজ পাওয়া যায়নি – ১৮.২৫%, ডুপ্লিকেট বা অতিরিক্ত নাম – ৮.৮৯%
সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ‘খোঁজ পাওয়া যায়নি’ এই কারণে নাম বাদ যাওয়ার হার অন্যান্য জেলাগুলির তুলনায় বেশি। বিশেষ করে পূর্ণিয়া ও কিশানগঞ্জে ‘অনুপস্থিত’ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। একইসঙ্গে দেখা গেছে, রাজ্যের এই চার সীমান্তবর্তী জেলাতেই মোট বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে ৫৬.৭১% নারী। অর্থাৎ মহিলারা বেশি সংখ্যায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কমিশনের একাংশের মতে, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে সীমানা ঘেঁষা অঞ্চলে এই ধরনের ব্যাপক তালিকা ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া আদৌ স্বচ্ছ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।