প্রতীক্ষিত নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে অবশেষে স্বস্তি পেলেন ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীরা। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court teacher recruitment) বৃহস্পতিবারের দ্ব্যর্থহীন পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাজ্য সরকার চাইলে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করতে পারে। একইসঙ্গে কর্মরত শিক্ষকদের ফর্ম পূরণের জন্য অতিরিক্ত সাত দিনের সময়ও অনুমোদিত হয়েছে।
২০১৬ সালের নিয়োগ–প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্ট ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ হিসেবে বাতিল ঘোষণা করলে রাতারাতি প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরিহীন হয়ে পড়েন। এরপর আদালতের নির্দেশে রাজ্য সরকার পুনর্নিয়োগের উদ্যোগ নেয় এবং বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেপ্টেম্বরের ৭ ও ১৪ তারিখে পরীক্ষা গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে যোগ্য প্রার্থীদের ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে পাঠদান চালিয়ে যেতে হবে।
দীর্ঘদিনের স্থবির নিয়োগ প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন পাঠদানের পাশাপাশি পরীক্ষা প্রস্তুতির অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের আরও দাবি ছিল, স্নাতক স্তরের ন্যূনতম যোগ্যতার সীমা ৫০ শতাংশ না রেখে ৪৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক, যেমনটি ২০১৬ সালের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ছিল।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্কুল সার্ভিস কমিশনের (Supreme Court teacher recruitment) ভূমিকা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কি এখনও অযোগ্যদের রক্ষা করে যোগ্যদের বাদ দিতে চাইছেন! এটি লজ্জাজনক। আদালত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে—অযোগ্য কোনও প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।” বেঞ্চ আরও জানান, যারা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে স্কুলে পাঠদান করছেন, তাঁদের সকলের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
চাকরিপ্রার্থীরা আদালতের এই নির্দেশ ও মন্তব্যকে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, এটি কেবল নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি দেবে না, বরং তাদের ভবিষ্যৎকেও সুরক্ষিত করবে।
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, প্রার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অযোগ্যদের বাদ দেওয়া, শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজ্য সরকারকে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের মানসম্মত সুযোগ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।