“আমি শুধু কাঁদতে চেয়েছিলাম, সেটাও রাজ্য সরকার করতে দিল না!”— কারামুক্তির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui bail news)। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গোপন আঁতাতেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে জোর করে স্তব্ধ করা হয়েছে।

বুধবার ধর্মতলায় ওয়াকফ আইন সংশোধন ও এসআইআর মামলার জেরে মুসলিম সমাজের উপর “হয়রানি”র প্রতিবাদে অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল আইএসএফ। কিন্তু পুলিশি হস্তক্ষেপে মিছিল আটকে যায়। অভিযোগ, পুলিশের এক কর্মীর ঘুষিতে নওসাদ নিজেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই চত্বর জ্বলতে শুরু করে উত্তেজনায়— ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের লাঠিচার্জে রণক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হেয়ার স্ট্রিট ও বউবাজার থানার যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন নওসাদ-সহ মোট ৯৫ জন আন্দোলনকারী। বৃহস্পতিবার আদালতে শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়।

জেল থেকে বেরিয়েই সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন নওসাদ (Naushad Siddiqui bail news)। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের হাতে ছিল না অস্ত্র, না লাঠি— আমরা কেবল আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলছিলাম। মাদ্রাসা ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ওবিসি সার্টিফিকেট কার্যকর হতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সন্তান আমি— সেখানেও চলছে নির্যাতন। ধর্নামঞ্চে কাঁদতে চেয়েছিলাম, তাতেও বাধা দেওয়া হল।”

এছাড়া, আদালতে বিচারপতির প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশ— এমন দাবিও করেন তিনি। নওসাদের কটাক্ষ, “এটা শুধু রাজ্য সরকারের কাজ নয়, কেন্দ্রীয় সরকারেরও প্রশ্রয় রয়েছে এই দমননীতির আড়ালে।”

ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন— “একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি পুলিশের হাতে মার খান, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়!” কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর কটাক্ষ— “প্রতিদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে এ রাজ্যে।”

যদিও রাজ্য সরকার কিংবা শাসক দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যদি রক্তাক্ত হয়, তবে কি সত্যিই গণতন্ত্র বিপন্ন?

 

আরো দেখুন:Narendra Modi on Rahul Gandhi:রাহুলের ভয়ে স্তব্ধ বিরোধী শিবির,পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর!