নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের (Chandranath Singh corruption case) বিরুদ্ধে বিস্তৃত চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।তদন্তকারী সংস্থার দাবি,মন্ত্রীর নামে থাকা বোলপুরের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ জমা পড়েছে।দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত ক্যাশ ডিপোজিট হলেও এই বিপুল অঙ্কের টাকার উৎস সম্পর্কে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি চন্দ্রনাথ সিংহ।ইডি-র অভিযোগ,ঠিক সেই সময় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের ডায়েরিতে মন্ত্রীর নাম এবং আর্থিক লেনদেনের বিশদ বিবরণ পাওয়া গিয়েছে,যা এই টাকা চাকরি বিক্রির মাধ্যমেই এসেছে—এমন সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে,এর আগেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বোলপুরের নায়েক পাড়ায় চন্দ্রনাথ সিংহের বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি।সেদিন মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়।টাকার উৎস জানতে চাইলে তিনি কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি বলে দাবি করে ইডি।পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত হয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন।তদন্তে পাওয়া ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখে দেখা যায়,পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর দুটি অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়েছে।
ইডি-র চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে,চন্দ্রনাথ সিংহ (Chandranath Singh corruption case) প্রথম থেকেই এই টাকা সম্পর্কে অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।সংস্থার দাবি,বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকা—দুটিই নিয়োগ দুর্নীতির সাথে সরাসরি যুক্ত।প্রমাণ হিসেবে কুন্তল ঘোষের ডায়েরি, ব্যাঙ্ক নথি এবং জিজ্ঞাসাবাদের বিবরণ চার্জশিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।প্রসঙ্গত,২০২২ সালের জুলাই মাসে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি ও তাঁর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনা সারা বাংলায় সাড়া ফেলেছিল।তার দুই বছর পর,২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজ্যের আরও এক মন্ত্রীর বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের ঘটনা ফের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তোলে।চন্দ্রনাথ সিংহের বিরুদ্ধে ইডি-র এই নতুন চার্জশিট মামলার গতিপথে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত মহল।