রাজ্য রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও বলে দাবি করা কিছু অশালীন কনটেন্ট। যদিও দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই সব ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগ, এই ঘটনা কোনও আকস্মিকতা নয়, বরং একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই ফল।
ঘটনা ঘটে এমন এক সময়, যখন দিলীপবাবু নিজের দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্ন তুলছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে বিজেপির রাজ্য স্তরের এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন লোকসভায় ১৮ থেকে ১২-তে নামার কারণ, রাজ্য নেতৃত্বের সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং ক্রমাগত জনসমর্থন হ্রাসের পেছনে কার দায়। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান অনেকের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই প্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, দিলীপ ঘোষকে চুপ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই ধরনের কুৎসা অভিযান চালানো হচ্ছে। বিজেপির অন্দর থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার জন্য তাকে দলের নানা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি লোকসভা ভোটের আগে নিজের কেন্দ্র মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে তাকে দুর্গাপুরে প্রার্থী করা হয়। নির্বাচনে হারার পর তাকে কার্যত সংগঠনের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
সেই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই পরবর্তী ধাপ হতে পারে এই ভিডিও ফাঁস। উদ্দেশ্য একটাই—দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি কলুষিত করা, যাতে তিনি আর দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন তোলার অবস্থানে না থাকেন। এখানেই উঠে আসছে ‘মেঘনাদ’ প্রশ্ন। এই কুৎসার নেপথ্যে কারা? বিজেপির বাইরের কেউ, না কি দলেরই অন্দরমহলের কেউ? দিলীপ ঘনিষ্ঠদের মতে, এই চক্রান্তের নেপথ্যে রয়েছে সেই একই গোষ্ঠী, যারা দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম রাখতে মরিয়া। এমনকি দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় নিয়েও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কটাক্ষ ছড়ানো হয়েছিল—তার বিয়েকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো রসালো কনটেন্ট তারই প্রমাণ।