বিহারে ভোটার তালিকার ‘নিবিড় সমীক্ষা’ নিয়ে চলা বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দেশের নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আর সেই বিতর্কে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে ফের জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের এবং তাঁদের বাবা-মায়ের জন্ম ও জন্মস্থানের প্রমাণ-সহ বাড়তি নথি জমা দিতে হবে। এমনকী ২০০৪ সালের পরে জন্মানোদের ক্ষেত্রেও একইভাবে বাবা-মায়ের ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

এই নির্দেশিকার বিরোধিতায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই ইউকি তবে এনআরসির প্রাথমিক খসড়া? বিহারে নাম করে বাংলার দিকে নজর? তরুণ প্রজন্মকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এই গোপন চাল?” এতদিন ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কেন্দ্র যা করে চলেছিল, তাতে একদিকে যেমন পরিযায়ী শ্রমিক ও দরিদ্র শ্রেণিকে নিশানা করা হচ্ছিল, অন্যদিকে বাড়তি নথির নামে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র বিরোধিতার মুখে অবশেষে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। সোমবার এক নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পরে যাঁদের জন্ম, তাঁদের আর কোনও অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে না।

কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিহারের ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের প্রমাণপত্র ফের জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৪.৯৬ কোটি ভোটারের নথি ইতিমধ্যেই কমিশনের নথিভুক্ত। নতুন করে বাবা-মায়ের জন্মতারিখ বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হবে না। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সাফ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাঁর প্রতিবাদেই নির্বাচন কমিশনকে নতুন বিজ্ঞপ্তি আনতে বাধ্য হতে হয়। আবারও প্রমাণ হল, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নেতৃত্বের বিকল্প নেই।”

বর্তমানে বিহারে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। ২০০৩ সালে তা ছিল ৪.৯৬ কোটি। সেই সময়কার তালিকা থেকেই যাচাই করে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে এটা স্পষ্ট— কেন্দ্র এক নতুন ‘নথি-রাজনীতি’ শুরু করতে চাইলেও, মমতার কণ্ঠস্বর সেই পথ আগেই রুখে দিল। তৃণমূল শিবিরের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষা করতে হলে এমন জননেতৃত্বই আজ সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। ‘নথির নামে বিভাজন’-এর রাজনীতি এবার মুখ থুবড়ে পড়ল।

 

আরও পড়ুন: Bidhan Nagar Ward 14 Event:একই মঞ্চে দুই কিংবদন্তীর পুনর্জন্ম: সৃজন কান্তি নাথের উদ্যোগে এক অবিস্মরণীয় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা, সঙ্গে জমকালো জন্মদিন উদযাপন!

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours