কাপুর পরিবারের অলিখিত নিয়ম ছিল—পরিবারের কোনও মেয়ে কিংবা বউ অভিনয় জগতে পা রাখবেন না। অতীতে যাঁরা বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী ছিলেন, তাঁরা বিয়ের পর এই পরিবারে এসে পর্দা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। কিন্তু এই ছক প্রথম ভাঙেন অভিনেতা রণধীর কাপুর এবং ববিতা কাপুরের জ্যেষ্ঠ কন্যা করিশ্মা কাপুর। পরিবারের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে অভিনয়কে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
তবে তারকা পরিবারের মেয়ে হয়েও করিশ্মার কেরিয়ার শুরুটা সহজ ছিল না। বলিউডে তাঁকে একরকম কোণঠাসা করা হয়েছিল। কাজের অভাবে হতাশ হয়ে রাতভর কাঁদতেন তিনি। এই কঠিন সময়গুলোর সাক্ষী ছিলেন তাঁর ছোট বোন করিনা কাপুর। সেই সময় করিনা ছোট ছিলেন, তাই দিদির পাশে গিয়ে দাঁড়াতে না পারলেও দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতেন দিদির কান্নার শব্দ।
করিনা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “দিদিকে দেখতাম খালি কাঁদছে। তখন আমি কিছু করতে পারিনি। খুব খারাপ লাগত আমার।”
পরবর্তীকালে করিনাই হয়ে ওঠেন করিশ্মার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। দিদির বিবাহবিচ্ছেদের সময় হোক কিংবা জীবনের অন্য যেকোনও কঠিন অধ্যায়ে, করিনা ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন।
সব বাধা পেরিয়ে করিশ্মা হয়ে ওঠেন ৯০ দশকের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘রাজাবাবু’, ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’, ‘জিগর’-এর মতো একাধিক বক্স অফিস হিট তাঁর ঝুলিতে। প্রায় এক দশক ধরে বলিউডে নিজের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি করিশ্মা কাপুর ৫০ বছরে পা দিয়েছেন। আজও তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে রইলেন বলিউডে লড়াই করে টিকে থাকা বহু অভিনেত্রীর কাছে।
আরও পড়ুন: Anamika Saha: অভিমানের অবসান, উইন্ডোজ়-এর ছবিতে প্রথমবার অনামিকা সাহা
Image source-Google