২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির (SSC) অভিযোগে বাতিল হয়েছে সেই বছরের পুরো প্যানেল। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রাজ্য সরকার (State Government) ঘোষণা করেছে, নতুন নিয়ম মেনে আগামী ৩১ মে আবার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত (Dicision) মেনে নিতে নারাজ ‘যোগ্য’ বলে দাবি করা চাকরিচ্যুতরা। তাঁদের যুক্তি, একবার পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করার পর ফের নতুন করে পরীক্ষা দেওয়া অসম্মানের। তাই এবার তারা সরাসরি পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে শুরু হবে তাঁদের অর্ধনগ্ন প্রতিবাদ মিছিল, যার গন্তব্য—নবান্ন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডল জানিয়েছেন, “আমরা নিজেদের প্রাপ্য সম্মান ফেরত চাই। নতুন করে পরীক্ষা নয়, পুনর্বহাল চাই।”
প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এই প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহুজন আজ বেকার। রাজ্য সরকার অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, নিয়ম মেনেই সকলকে সুযোগ দেওয়া হবে। এমনকি, অন্যান্য দপ্তরেও চাকরির ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন। তবু আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড়।
সরকারের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চলা বাধ্যতামূলক, এবং পরীক্ষা দিয়েই ফের নিয়োগ হবে। তা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের এই প্রতিবাদ নিয়ে সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন আবার সুযোগ পাওয়ার দরজা খোলা থাকলেও কি এই অর্ধনগ্ন আন্দোলন যথাযথ?
এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি এবং সামাজিক আবেগের জটাজালে ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। একদিকে নিয়মের শৃঙ্খলা, অন্যদিকে হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার মরিয়া লড়াই। ৩১ মে’র বিজ্ঞপ্তি ঘিরে তাই উত্তেজনা তুঙ্গে, আর তার আগের দিন রাস্তায় নামছেন যাঁরা একসময় শ্রেণিকক্ষে ছিলেন ভবিষ্যতের কারিগর।
আরও পড়ুন: Prostate Cancer: প্রস্টেট ক্যানসার কীভাবে শরীরে বাসা বাঁধে?