স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন অন্যতম জনপ্রিয় নাম কিনোয়া। ওজন কমানো, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর ক্ষেত্রে এই খাদ্যশস্যের জুড়ি মেলা ভার। ভাত বা রুটির বিকল্প হিসেবেও অনেকেই নিয়মিত কিনোয়া খেয়ে থাকেন। তবে সব স্বাস্থ্যকর খাবারই যে সবার জন্য সমান উপকারী হবে, এমন নয়। বিশেষ করে কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে কিনোয়া খাওয়ার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

 

কিনোয়া আসলে এক ধরনের বীজ, যা গ্লুটেন-মুক্ত এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। বাজারে সাধারণত সাদা, লাল ও কালো— এই তিন ধরনের কিনোয়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাদা কিনোয়া সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। লাল কিনোয়া সালাদে জনপ্রিয়, আর কালো কিনোয়ার স্বাদ তুলনামূলক মিষ্টি।

 

পুষ্টিবিদদের মতে, কিনোয়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ই। পাশাপাশি এতে রয়েছে নয় ধরনের প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, যা খুব কম খাবারেই একসঙ্গে পাওয়া যায়। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি একটি ভাল খাদ্যবিকল্প বলে মনে করা হয়।

 

নিয়মিত কিনোয়া খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়, হজমশক্তি উন্নত হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি উপকারী। এছাড়া হাড় মজবুত রাখা এবং শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

তবে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কারণ কিনোয়ায় পটাশিয়াম এবং ফসফরাসের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর থেকে এই খনিজগুলির অতিরিক্ত অংশ বের করে দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ফলে রক্তে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত কিনোয়া খাওয়া উচিত নয়। যদি কিডনির সমস্যা থাকলেও শরীরে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা হলে মাঝেমধ্যে সীমিত পরিমাণে কিনোয়া খাওয়া যেতে পারে। তবে সেটিও অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী।

 

তাই কিনোয়া যতই ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত হোক না কেন, নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবারও সঠিক ব্যক্তির জন্য সঠিক পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: Healthy Lifestyle: গ্রিন টি-ই শেষ কথা নয়! রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এই ৩ স্বাস্থ্যকর পানীয়

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *