তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই লাগাতার প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন—এই অভিযোগ তুলে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir murder plot allegation)। সেই মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বিস্ফোরক অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার সরাসরি মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো।
হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করা সম্ভব না হওয়ায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে দু’জন সুপারি কিলার নিয়োগ করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি সাজানো সড়ক দুর্ঘটনার মাধ্যমে তাঁর গাড়িকে ধাক্কা মেরে প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রকাশ্যে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir murder plot allegation) বলেন, “আমার সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই করতে না পেরে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অপেক্ষা করুন, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করুক। তারপর দেখা যাবে মুর্শিদাবাদের এসপি কোথায় থাকেন, লালগোলার ওসি কোথায় থাকেন, প্রশাসনের কর্তারা কোথায় অবস্থান করেন।”
একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়ার কথাও উল্লেখ করেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন হুমায়ুন কবীর। এমনকি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়েও তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন।
আদালত বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তিনি রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা পেলেও তা যে সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত, সেই বিষয়টি আদালতকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তায় মাত্র দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট নয়।
এই বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।