দীর্ঘ প্রায় দু’বছর জনসমক্ষে প্রায় নীরব থাকার পর ফের প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সন্দেশখালির বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan statement)। বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগ ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজেকে “পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি” বলে দাবি করেছেন, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শেখ শাহজাহান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারলেই এ ধরনের মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই সত্যের বিচার করবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে প্রভাবিত করেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে তাঁর ধারণা।
ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগের পক্ষে কোনও স্পষ্ট প্রমাণ বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি এবং অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দোষী করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় নাম জড়ানো এবং ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পাশাপাশি সাক্ষী ভোলা ঘোষকে খুনের চেষ্টার অভিযোগেও একটি এফআইআর দায়ের হয়, যেখানে শেখ শাহজাহান ও তাঁর স্ত্রীর নামসহ মোট আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়।
তদন্ত চলাকালীন উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময় ভোলা ঘোষের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই দুর্ঘটনায় তাঁর পুত্রের মৃত্যু হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটির স্বাভাবিকতা নিয়ে সে সময় প্রশ্ন ওঠে এবং রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ শাহজাহানের (Sheikh Shahjahan statement) সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে তাঁর দাবি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির সত্যতা শেষ পর্যন্ত বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে আইনজীবী ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।
সন্দেশখালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের এই বিতর্ক আপাতত শেষের পথে নয়; বরং সাম্প্রতিক এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।