নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে আজ, আজ থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আগে ২ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের কথা থাকলেও ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় বাজেট (West Bengal Assembly Budget Session) পেশ করা হবে।
বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অধিবেশনের প্রথমার্ধে থাকবে রাজ্যপালের ভাষণ এবং দ্বিতীয়ার্ধে পেশ করা হবে ভোট অন অ্যাকাউন্ট। ২০২৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এ বছর পূর্ণাঙ্গ বাজেটের (West Bengal Assembly Budget Session) বদলে ভোট অন অ্যাকাউন্ট আনা হচ্ছে। এবারের অধিবেশন চলবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
তবে শুধুই বাজেট নয়, রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আটকে রয়েছে এসআইআর ইস্যুতে। অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন অধিবেশনে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি নিন্দা প্রস্তাব তোলা হবে। ইতিমধ্যেই দুটি মোশন জমা পড়েছে— একটি সরকার পক্ষের তরফে এবং অন্যটি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী সরকার পক্ষের আনা প্রস্তাবই গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার।
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে বিরোধী বিধায়করা কথা বলার সুযোগ পাবেন না। নওশাদ সিদ্দিকী চাইলে তাঁর অবস্থান বিধানসভায় তুলে ধরতে পারবেন।
অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর চালু হওয়ার পর একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ও আহত হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এর জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত সরকার পক্ষের।
বাজেট অধিবেশনের আগে সর্বদল বৈঠকের জন্য বিরোধী দলগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেও জানান স্পিকার। যদিও অভিযোগ, বিরোধীরা সেই বৈঠকে যোগ দেননি। তবুও তিনি আশাবাদী, অধিবেশনে বিরোধীরা অংশ নেবে এবং সংসদীয় রীতি মেনে আলোচনা হবে।
সময়সীমা কম হলেও এবারের অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশ্নোত্তর পর্ব বাদ দিয়ে মূলত ভোট অন অ্যাকাউন্ট ও এসআইআর সংক্রান্ত নিন্দা প্রস্তাব— এই দুই বিষয় ঘিরেই অধিবেশনের বড় অংশের সময় ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা।
সব মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত হলেও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবারের রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন।