বঙ্গ বিজেপির (BJP) মুখ হিসেবে কি শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সম্ভাবনা বাড়ছে? এই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের পর। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বিজেপি কখনও কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh ) নেতৃত্বে কেউ মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সামনে আসেনি। দলনেতারা বরাবর বলতেন, বিজেপির ‘মুখ’ একমাত্র নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কিন্তু চলতি বছরের বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দুকে (Suvendu Adhikari) পাশে রেখে শমীকের মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
শমীক ও শুভেন্দুর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও এই প্রথম ঘটনা। বৈঠকে প্রধানত কলকাতায় টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির সফরের সময় যে বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের প্রস্তুতি ও সমন্বয়কে কেন্দ্র করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শমীক বলেন, “জুন মাসে এই বৈঠক আবার হবে। বিরোধী দলনেতাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যাবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী সংক্রান্ত ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
শমীক সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপি কোনও মুখ মুখোশের রাজনীতি করে না। নতুন মন্ত্রিসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্যই থাকবেন।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, “শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রাখেন, তাই তার উপস্থিতি প্রয়োজন।” অন্যদিকে, শুভেন্দু জানান, ইডেন স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতি ‘সিম্বলিক’, রাজনৈতিক ইঙ্গিত নয়।
শমীকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করেছেন, “শমীক এখনও কমিটি গঠন করতে পারেননি। দলীয় সংঘাত চলছে আদি বিজেপি বনাম বর্তমান। তাই এখন তিনি কৌশলগতভাবে পদক্ষেপ করছেন।”
এদিন শমীক ও শুভেন্দু বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। প্রকাশিত একটি পুস্তিকায় তারা অভিযোগ করেন, বিজিবিএসের জন্য ঘোষিত বিনিয়োগের বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি হয়নি এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এছাড়াও, যুবভারতীতে মেসির সফরকালে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে শুভেন্দু এবং দলের বিধায়করা স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। তারা রাজ্য সরকারের তদন্ত কমিটিকে অগ্রাহ্য করে, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: CPIM: নমস্য হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ! মতুয়াদের পাশে বামেরা, ঠাকুরবাড়িতে প্রণাম সুজন-মীনাক্ষীর