ডায়মন্ড হারবারের সরিষা অঞ্চলে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তাঁকে ঘিরে হঠাৎই জমে ওঠে বিক্ষোভ। আশ্চর্যের বিষয়, প্রতিবাদকারীদের মুখে শোনা গেল সেই পরিচিত স্লোগানই, “জয় শ্রীরাম” এবং “গো ব্যাক”। আরও বিস্ময়ের, অন্য আরেকটি ভিডিওয় ধরা পড়েছে “দিলীপ ঘোষ জিন্দাবাদ” ধ্বনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির ভেতরের কোন গোষ্ঠীসংঘাত প্রকাশ্যে ফেটে পড়ল? ২০২১ সালে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে মেয়াদ শেষের আগেই সরিয়ে দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষকে; সেই জায়গায় আসে তরুণ নেতা সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন, অথচ দলীয় রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) যেন কিছুটা আড়ালে চলে গিয়েছেন এমন ধারণা অনেকের। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন।
একটি ভাইরাল ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, গাড়ির ভিতরে বসে সুকান্তকে (Sukanta Majumdar) বলতে শোনা যায়, “এরা সব ববির লোক।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, এখানে ‘ববি’ বলতে তিনি অভিজিৎ দাসকেই ইঙ্গিত করেছেন, যিনি দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন, এই বিক্ষোভ কি সত্যিই অভিজিৎ-পন্থীদের কর্ম? যদিও অভিজিৎ দাস তা অস্বীকার করে বলেন, তৃণমূলের পক্ষপাতী কিছু মানুষ বিজেপির ভেতরে বিভাজন তৈরি করতে চেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তার দাবি, ভিডিও দেখে তিনি কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন এবং তাদের বাইক নাকি অভিষেক-পন্থী স্থানীয় এক নেতার অফিসের সামনে রাখা ছিল।
অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদার কোনও বিতর্কমূলক মন্তব্যে না গিয়ে দোষ চাপিয়েছেন তৃণমূলের উপর। তাঁর কথায়, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। তৃণমূল অবশ্য উল্টো দাবি করেছে তাঁদের মতে, বিজেপির বহু গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব এতটাই গভীর যে দলের পুরোনো কর্মীরাই সুকান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। এই ঘটনার কেন্দ্রে যাঁর নাম বারবার উঠে আসছে সেই দিলীপ ঘোষ অবশ্য বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সংস্কৃতিতে নিজেদের নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া যায় না; এসব তৃণমূলের কৌশল মাত্র।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: বনগাঁ সফরে কপ্টার বিপত্তি, বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রীর হুঁশিয়ারি