কৃষ্ণনগরে বিএলও–র আত্মহত্যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একান্ন বছরের রিঙ্কু তরফদারের এই মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক তরজা। মৃতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে তিনি লেখেন যে, বিএলও–র কাজ সামলাতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ বাড়বে, যা তিনি সহ্য করতে পারবেন না। এই অভিযোগ সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন যে অমানবিক কাজের চাপ কর্মীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Nabanna: এসআইআরের মাঝেও উন্নয়ন থামবে না, জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ নবান্নের
এবার এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাল বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি তৃণমূলের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, মৃতদেহের খোঁজে যেমন শকুন ঘুরে বেড়ায়, তেমনই তৃণমূলও মৃত্যু ঘটলেই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তৎপর হয়ে ওঠে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের কোথায় কে মারা গেল বা আত্মঘাতী হল তৃণমূল নাকি সেই সমস্ত খবরের দিকে অস্বাভাবিক নজর রাখছে। এমনকি কেউ স্বাভাবিক অসুস্থতায় মারা গেলেও, তা নিয়েও নাকি রাজনৈতিক প্রচার শুরু করে দলটি। রাহুলের মন্তব্য, এই আচরণে তৃণমূল শকুনের ভূমিকাই পালন করছে, আর সাধারণ মানুষও এখন তা বুঝতে পারছে।
রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন। রাহুল জানান, “ঘটনা ঘটতেই মুখ্যমন্ত্রী টুইট করলেন দারুণ গতি! অথচ চাকরি হারানো মানুষরা যখন রাস্তায় আন্দোলন করছিলেন, তখন তো তাঁর তরফে কোনও বক্তব্য আসেনি।” তাঁর অভিযোগ, মূলত এসআইআর এর চাপ ও সম্ভাব্য তদন্তের ভয় তৃণমূলকে এই ধরনের ঘটনায় অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে।
রাহুল সিনহা আরও দাবি করেন যে, রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাই তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই–কে দিয়ে তদন্ত করানোর আবেদন জানান এবং বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চাইলে আমরা তাঁকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি এই মৃত্যু সম্পর্কে সিবিআই তদন্ত হোক। এতে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
এই ঘটনার পর প্রশাসনিক চাপ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সবকিছু মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রিঙ্কু তরফদারের পরিবার শোকাহত, আর তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে রাজনীতির পারদ ক্রমেই চড়ছে।