জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদ্য কার্যকর করা SIR (Summary Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইতিমধ্যেই কমিশনের উদ্দেশে একটি বিস্তৃত চিঠি পাঠিয়ে তিনি দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে SIR স্থগিত করতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলওদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) অভিযোগ, পরিকল্পনাহীনভাবে এই প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মীদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রশাসনিক দিক থেকেও বিপজ্জনক ও অগোছালো।
চিঠির শেষাংশে মমতা (Mamata Banerjee) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “চলমান SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করুন। কাউকে জোর করে চাপ দেবেন না। বিএলওদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।” তাঁর কথায়, যে কাজ বাস্তবে তিন বছর ধরে ধীরে ধীরে করার প্রয়োজন, কমিশন তা মাত্র তিন মাসে শেষ করতে আদেশ দিচ্ছে,এ যেন জবরদস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে আমন ধান কাটার মৌসুম, পাশাপাশি রবি শস্য বিশেষত আলু রোপণের সময় চলছে। লক্ষ লক্ষ চাষি ও শ্রমিক মাঠে ব্যস্ত। ফলে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে SIR চালানো একেবারেই অযৌক্তিক এমনটাই বিশেষজ্ঞদের মতও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি SIR সংক্রান্ত চাপের কারণে একের পর এক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা জলপাইগুড়ি মালবাজারে এক বিএলও আত্মহত্যা করেন, যেটি ঘিরে রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আবার কোন্নগরে ফর্ম বিলি করতে গিয়ে বিএলও তপতী বিশ্বাস হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে এবং শরীরের বাম পাশ নিথর হয়ে গেছে। আপাতত তিনি হাসপাতালে ভর্তি।
এসব ঘটনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, “কমিশনের এমন আচরণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে।” অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ আগরওয়াল সংক্ষেপে জানিয়েছেন, “সবই দেখবে ECI, আমরা দেখব না।”