২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Elections) প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। তবে এ বারের লড়াইটা আর শুধু জনসভা, রোড শো কিংবা দলীয় পোস্টার-ফেস্টুনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। যুদ্ধের নতুন ময়দান সোশ্যাল মিডিয়া। যাকে বলে ‘ডিজিটাল ব্যাটেলগ্রাউন্ড’। আর সেই লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে বাংলার প্রধান দুই প্রতিপক্ষ — তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ও বিজেপি (BJP)।
একদিকে তৃণমূলের (TMC) তরুণ মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে চালু হয়েছে ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি, যেখানে যুব সমাজকে ‘ডিজিটাল সৈনিক’ হিসেবে সংগঠিত করে অনলাইনে বিজেপির ‘ভুয়ো প্রচার’-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পাল্টা জবাবে বিজেপিও (BJP) রাজ্যে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া বাহিনীকে নতুনভাবে সাজাতে তৎপর। দলের কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক এবং আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য সম্প্রতি রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে দুর্নীতি, বন্যা, নারী নির্যাতন, চাকরি কেলেঙ্কারির মতো ইস্যুগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে সাধারণ মানুষের সামনে।
শুধু তা-ই নয়, বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে ‘ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা’-র লড়াই। স্লোগান, ভিডিও, মিম এবং তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে জোর দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সায়েন্স সিটিতে বসছে বিজেপির বড়সড় সোশ্যাল মিডিয়া কর্মশালা, যেখানে আরও কৌশল নির্ধারিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, বাংলার ডিজিটাল পরিসর ততই রাজনৈতিক লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। বাস্তব ময়দানের থেকেও বড় হয়ে উঠতে চলেছে এই ‘ভার্চুয়াল যুদ্ধক্ষেত্র’। কে কতটা ছড়িয়ে দিতে পারবে নিজের বার্তা, কে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ন্যারেটিভ — সেই নিরিখেই হতে পারে নির্বাচনী সমীকরণ নির্ধারণ।