বলিউড বা টলিউডে তিনি পরিচিত মুখ, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য একেবারেই সরল জীবনযাপন পছন্দ করেন। স্পষ্টবাদিতা আর ঈশ্বরবিশ্বাসে দৃঢ় এই অভিনেত্রী নিজের জীবনধারায় এনেছেন কিছু কঠোর নিয়ম। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কখনও পাঁঠার মাংস খাননি। পরিবারের ধর্মীয় প্রথা আর নিজের নীতিই তাঁকে এই জীবনধারার পথে এনেছে।
অপরাজিতার বাড়িতে রাধাগোবিন্দের পূজা হতো নিয়মিত। মাংস রান্নার অনুমতি ছিল না, আনলেও আলাদা বাসনপত্রে রান্না করতে হতো। সেই পরিবেশেই বড় হওয়া অভিনেত্রীর মাংস খাওয়ার ইচ্ছেই হয়নি। এখনও তিনি সপ্তাহে চার দিন—সোম, মঙ্গল, শুক্র ও শনিবার—কঠোরভাবে নিরামিষ থাকেন। বৃহস্পতিবার অবশ্য ‘লক্ষ্মীবার’, সেদিন মাছ খাওয়া তাঁর কাছে আবশ্যক। স্বামী ও শাশুড়ির জন্যই আজও মাঝে মাঝে মাছ খান তিনি। মুরগির মাংস খান খুবই অল্প।
অভিনেত্রী জানান, শুটিং বা অনুষ্ঠানের কাজে দেশ-বিদেশে ঘুরতে হলেও নিজের খাদ্যাভ্যাসে খুব একটা পরিবর্তন আনেন না। নিউ ইয়র্কে গেলে বাংলাদেশি ভক্তরা তাঁর জন্য বাড়তি যত্ন নেন—সবজি দিয়ে ভাত রেঁধে খাওয়ান তাঁকে। বিদেশে থেকেও তাই খুব একটা কষ্ট হয় না খাবার নিয়ে।
মাংসাশী ও নিরামিষভোজীদের মধ্যে চলা বিতর্ক নিয়েও স্পষ্ট মত দিয়েছেন অপরাজিতা। তাঁর কথায়, “আমার আনন্দ কখনও কারও মৃত্যুর কারণ হতে পারে না। যখন কোনও প্রাণীকে হত্যা করা হয়, সে ভয় নিয়ে মারা যায়। সেই ভয়, সেই নেতিবাচক শক্তি শরীরে জমে থাকে। আমি চাই না সেই শক্তি আমার শরীরে প্রবেশ করুক।”
অপরাজিতা আঢ্যর জীবনদর্শন স্পষ্ট—খাদ্যাভ্যাস শুধু পছন্দ বা স্বাদের বিষয় নয়, তা মানুষের মানসিকতা ও আধ্যাত্মিক ভাবনার প্রতিফলনও বটে। ব্যক্তিগত বিশ্বাসে দৃঢ় থাকলেও অন্যের পছন্দে হস্তক্ষেপ করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে নিরামিষভোজন কেবল প্রথা নয়, বরং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক উপায়।
ব্যস্ত অভিনেত্রীজীবনের পাশাপাশি এই সরল, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন তাঁকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বহু মানুষের কাছে তিনি প্রেরণা—যেখানে আধুনিক জীবনযাত্রার জাঁকজমক এবং খাদ্যরসিকতার ভিড়েও অনেকে নিজস্ব বিশ্বাসে অটল থাকতে পারেন, তার এক উদাহরণ অপরাজিতা আঢ্য।
আরও পড়ুন: Recipe: বাড়িতে বানিয়ে নিন স্বাস্থ্যকর চিড়ের পোলাও
Image source-Google