পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ফের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন—মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘অস্বাস্থ্যকর’ খাবার নিয়ে যে সতর্কীকরণ জারি হয়েছে বলে দাবি উঠেছে, সেই বিষয়ে কার্যত কেন্দ্রকে একহাত নিলেন তিনি। তার বক্তব্য, এই ধরনের নির্দেশিকাকে রাজ্যে কার্যকর করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি জারি করে বলেন, ‘‘কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নির্দেশে এখন থেকে সিঙাড়া-জিলিপি খাওয়া নিষিদ্ধ হতে চলেছে। এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এই ধরনের কোনও বিজ্ঞপ্তি পশ্চিমবঙ্গ সরকার জারি করেনি এবং করবেও না। আমরা মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দে হস্তক্ষেপ করি না।’’

রাজ্যবাসীর আবেগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাঙালি ভোজনপ্রেমী জাতি। চা-বৃষ্টি-আড্ডার সঙ্গে চপ, সিঙাড়া আর জিলিপির যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তা হঠাৎ করে ‘অস্বাস্থ্যকর’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলা যায় না। পাশাপাশি কেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে মমতার কটাক্ষ, ‘‘আমার বিশ্বাস, সিঙাড়া-জিলিপি শুধু বাংলার নয়, গোটা ভারতের বহু মানুষের প্রিয়। খাদ্যসংস্কৃতি কোনও রাজনৈতিক নির্দেশে পরিচালিত হয় না।’’

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক নির্দেশিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জিলিপি, সিঙাড়ার মতো খাবার খাওয়ার বিষয়ে ‘সতর্কতা’ জারি করেছে। যদিও পরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, খাদ্য নিষিদ্ধ করার কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। শুধুমাত্র সচেতনতামূলক পোস্টার টাঙানোর কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা, এই ধরনের ‘নরম হস্তক্ষেপ’ও বাংলার খাদ্য সংস্কৃতিকে অপমান করে। বাংলার মানুষ জানেন কী খাওয়া উচিত, কী নয়। তাঁদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁদেরই। কেন্দ্রকে এই বিষয়ে ‘মর্যাদাবোধ’ দেখানোর পরামর্শ দিলেন তিনি।

 

আরও পড়ুন: Singara-Jilabi: শিঙাড়া-জিলিপি নিয়ে কেন্দ্রের সতর্কবার্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক পোস্টার

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours