অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জনকে ‘নাটক’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ফয়েজ আহমেদ (Foyez Ahmed military remarks)। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি শুধুমাত্র ইউনূসের পদত্যাগ না করার দাবি করেননি, সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার বিষয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। ফয়েজের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফয়েজ আহমেদ (Foyez Ahmed military remarks) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আজকের সভ্য সমাজে কোনো দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করে না।” তিনি সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সেই মন্তব্যকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন, যেখানে সেনাপ্রধান উল্লেখ করেছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা হবে। ফয়েজ এই বক্তব্যকে ‘অধিকারবহির্ভূত’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে পরে ফয়েজ তার পোস্ট ডিলিট করে জানিয়েছেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত ছিল।
এছাড়া ফয়েজ বলেছেন, “সেনাবাহিনীকে প্রাপ্য সম্মান ও আস্থা দিতে হবে। সেনাবাহিনী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হঠকারী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।” তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, “আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চাওয়া যাবে না।”
এদিকে সেনাপ্রধানের ওই মন্তব্যের পর সরকারি মহলে তাকে অপসারণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ঢাকায় সেনা অফিসারদের ‘দরবারে’ সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ‘ফ্রি, ফেয়ার, ইনক্লুসিভ’ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন চান তিনি।
সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিযুক্ত করা হয়। তার পদত্যাগের গুঞ্জন বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল, যা ফয়েজের মন্তব্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস দীর্ঘ। তাই ফয়েজের ‘সেনাবাহিনী রাজনীতি করে না’ মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কি সামরিক বাহিনীর সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকার একটি ইঙ্গিত, নাকি সরকারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার টানাপোড়েনের প্রকাশ, তা এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।