গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অনেকেরই খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। ভারী, তেল-মশলাদার খাবার খেতে ইচ্ছা করে না, বরং মন চায় হালকা ও সহজপাচ্য কিছু। এমন সময় খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন এনে শরীরকে ঠান্ডা রাখা যেমন জরুরি, তেমনই প্রয়োজন স্বাদের নতুনত্ব। এই ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার হতে পারে দারুণ বিকল্প।

 

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে বিশেষ ধরনের খাবার খাওয়ার চল রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রান্নায়ও এমন কিছু পদ রয়েছে, যা গরমে আরাম দেয় এবং হজমেও সহায়ক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি পদ হল—মসুর তেঙ্গা, কাচকলার পিতিকা এবং দহি পুরা বেঙ্গন।

 

প্রথমেই আসা যাক মসুর তেঙ্গার কথায়। এটি অসমের একটি জনপ্রিয় টক স্বাদের মাছের ঝোল। গরমকালে টক খাবার খেলে রুচি বাড়ে এবং শরীরও কিছুটা ঠান্ডা থাকে। এই পদে সাধারণত কাতলা বা অন্য কোনও মাছ ব্যবহার করা হয়। টম্যাটোর টক স্বাদ এবং হালকা মশলায় তৈরি এই ঝোল খুবই পাতলা এবং সহজপাচ্য। গরম ভাতের সঙ্গে খেতে অত্যন্ত ভালো লাগে।

 

দ্বিতীয় পদ কাচকলার পিতিকা, যা অনেকটা বাঙালির ভর্তার মতো। কাঁচকলা সেদ্ধ করে তার সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, পোড়া টম্যাটো ও ধনেপাতা মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই পদ। এতে তেল-মশলার ব্যবহার কম, ফলে এটি হজমের পক্ষে ভালো। গরমের দিনে হালকা খাবার হিসেবে এটি বেশ উপযোগী।

 

তৃতীয় পদ দহি পুরা বেঙ্গন। এটি মূলত পোড়া বেগুন এবং টক দই দিয়ে তৈরি একটি ঠান্ডা পদ। প্রথমে বেগুন পুড়িয়ে তার শাঁস বের করে নেওয়া হয়, তারপর তার সঙ্গে ঠান্ডা ফেটানো দই মিশিয়ে নেওয়া হয়। স্বাদমতো নুন, ভাজা জিরেগুঁড়ো ও পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি হয় এই মোলায়েম পদ। ভাত বা রুটির সঙ্গে এটি খেতে দারুণ লাগে এবং শরীরকেও ঠান্ডা রাখে।

 

সব মিলিয়ে, গরমের একঘেয়ে খাবার থেকে বেরিয়ে এসে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই তিনটি পদ আপনার খাদ্যতালিকায় নতুন স্বাদ আনতে পারে। একই সঙ্গে এগুলি হালকা, পুষ্টিকর এবং গরমে শরীরকে স্বস্তি দিতেও সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: Egg Yolk: ডিমের কুসুম খেলে কি সত্যিই বাড়ে কোলেস্টেরল? ভুল ধারণা ভাঙছেন পুষ্টিবিদেরা

Image source-Google

By Torsha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *