দুপুর গড়াতেই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উপচে পড়ে ভিড়। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আহ্বানে সেখানে উপস্থিত হন দলের বিএলএ-১ ও বিএলএ-২ স্তরের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকেই ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের দ্বিতীয় ধাপে দলীয় কাজকর্ম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন মমতা। ভোটার যাচাই থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সব ক্ষেত্রেই বিএলএ-দের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার বার্তা দেন তিনি।
বিএলএ-দের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট করে জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া ভোটারদের খোঁজ নেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রতিটি পোলিং স্টেশনের এএসডি তালিকা জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা ধরে যাচাই করে দেখতে হবে, তালিকাভুক্ত ভোটাররা বাস্তবে রয়েছেন কি না। যদি কোনও বাদ পড়া ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ ও অ্যানেক্সচার-৪ যথাযথভাবে ইআরও-র কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্বও বিএলএ-দেরই নিতে হবে।
যেসব ভোটারকে বিএলও ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তাঁরা শুনানির নোটিস পেয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি, ওই ভোটারদের কাছে ১১টি নির্দিষ্ট নথির মধ্যে অন্তত একটি নথি আছে কি না, তা সংগ্রহ করে রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে। শুনানির দিন যাতে কেউ অনুপস্থিত না থাকেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বিএলএ-দের উপর বর্তায়।
যাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় কোনও নথি নেই, তাঁদের জন্যও সমাধান বাতলে দেন মমতা। তিনি বলেন, স্থায়ী বাসস্থান শংসাপত্র, তফসিলি জাতি বা উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র পাওয়ার জন্য দ্রুত আবেদন করাতে হবে। পাশাপাশি বিএলএ-২ দের উদ্যোগে ‘মে আই হেল্প ডেস্ক’ চালুর নির্দেশও দেন তিনি।
বিএলও অ্যাপে যেসব ভোটারের নামের পাশে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ ধরা পড়েছে, তাঁদের নথি ঠিকঠাক জমা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। কোনও ভোটার যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে বুথভিত্তিক ক্যাম্প খোলার দায়িত্ব বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের উপর দেন মমতা। এদিন তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কাজ না করলে কাউন্সিলর বদলে ব্লক প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করতেও তিনি পিছপা হবেন না।
ফর্ম ৬ ও ফর্ম ৮ জমা দেওয়া ব্যক্তিদের উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, আগের তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢোকানো হয়েছিল। তাঁর মন্তব্য, “একটা বাঙালি, দশটা গুজরাটি। এখন আবার এআই ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” তাই প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখে হাসিমুখে মানুষকে সাহায্য করার নির্দেশ দেন তিনি।