বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Sarat Chandra Chatterjee) জন্মভিটে এবার রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে। তাঁর ১৪৯তম জন্মজয়ন্তীতে (১৫ সেপ্টেম্বর), এই সাহিত্যিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করলেন—হুগলির (Hooghly) দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্রের পৈতৃক ভিটে সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকার ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) কথায়, খুব দ্রুতই সংস্কারের কাজ শুরু হবে এবং এই ঐতিহাসিক স্থানটি পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় রূপে গড়ে তোলা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “বাংলা সাহিত্যের চিরস্মরণীয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিবসে জানাই প্রণাম। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাঙালির সমাজজীবনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি, যা যুগে যুগে পাঠকের মন জয় করেছে।” শুধু দেবানন্দপুর নয়, শরৎচন্দ্রের হাওড়ার দেউলটির ঐতিহ্যবাহী বাড়িও ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার হেরিটেজ প্রকল্পের আওতায় এনে পূর্ণ সংস্কার করেছে। সেখানে পর্যটকদের জন্য নির্মিত হয়েছে রাস্তা, আলোর ব্যবস্থা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিকাঠামো। এখন সেখানে একটি ‘শরৎ স্মৃতি উদ্যান ও ইনফরমেশন সেন্টার’ তৈরির কাজ চলছে।
দেবানন্দপুর গ্রামে কাটানো কথাশিল্পীর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, “এই গ্রামে বসেই তিনি রচনা করেছেন তাঁর বহু অমর সৃষ্টি ‘দেবদাস’, ‘দত্তা’, ‘গৃহদাহ’, ‘শ্রীকান্ত’-এর মতো কালজয়ী উপন্যাস।”
রাজনৈতিক ভাবে এই ঘোষণার তাৎপর্য গভীর। বাংলা সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা ও পর্যটনের প্রসারের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছেন, অন্যদিকে রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। শরৎচন্দ্রের স্মৃতি ঘিরে গড়ে উঠতে চলেছে এক নতুন সাংস্কৃতিক পরিসর—যেখানে ইতিহাস, সাহিত্য ও পর্যটন একসূত্রে গাঁথা থাকবে।