শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় ‘স্বচ্ছতা’র বার্তা দিতে চায় রাজ্য সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) দ্বিতীয় দফার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হল শনিবার। পরীক্ষা শেষেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) জানিয়ে দিলেন, “এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনও ঘাটতি থাকবে না। মডেল উত্তরপত্র আপলোড করা হবে ওয়েবসাইটে—সব খোলাখুলি, কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।”
শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত বিষয়ের মডেল উত্তরপত্র আপলোড করা হবে এসএসসি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এবং তা সংরক্ষিত থাকবে আগামী দু’বছর। কোনও পরীক্ষার্থীর আপত্তি থাকলে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা জানাতে পারবেন অনলাইনেই। ফলে প্রশ্নফাঁস বা উত্তর মূল্যায়নে স্বজনপোষণের অভিযোগ থেকে দূরে রাখাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য। পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রথমবারের মতো উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি ডিজিটালি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসএসসি। ব্রাত্য বসুর কথায়, “প্রত্যেকটা উত্তরপত্র ১০ বছর পর্যন্ত রেকর্ডে থাকবে। কোনও সন্দেহ থাকলে পরে যাচাই করা যাবে।”
অন্যদিকে, হিন্দি ভাষার জন্য ৩৭০টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পরীক্ষার্থীরা এসেছেন। ৭ সেপ্টেম্বরের প্রথম দফায় ভিনরাজ্য থেকে ৩১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এসেছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় সেই সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৫১৭। উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে এত পরীক্ষার্থী কেন বাংলার নিয়োগ পরীক্ষায়? নাম না করে সেই প্রশ্নও ছুঁড়ে দিলেন ব্রাত্য, “ওদের ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকলে কী হবে, চাকরির ইঞ্জিন তো বাংলাতেই চলছে।”
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নভেম্বর থেকে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে এগোবে এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন এসএসসি চেয়ারম্যান। ব্রাত্য বসুর কথায়, “২০১৬ সালের দুর্নীতিগ্রস্ত প্যানেল বাতিল হয়েছে। এবার কেউ আঙুল তুলতে পারবে না—স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হবে, এটাই মমতা সরকারের প্রতিশ্রুতি।”