ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত কলকাতার মোমিনপুর।লক্ষ্মীপুজোর আগের রাত থেকে দুই ধর্মের মানুষের বিরোধিতা এমন চরমে ওঠে, যে গোটা এলাকা জুড়ে প্রায় বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।এই পুরো ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগোড়ায় দাঁর করায় গেরুয়া শিবির। এদিকে পরপর এই দুই ঘটনার পরই সোমবার মোমিনপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
কিন্তু মোমিনপুর যাওয়ার পথে আটক করা হয় তাকেও।সূত্র মারফত জানা গেছে,শনিবার রাত থেকে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত মোমিনপুরের ময়ূরভঞ্জ রোড।
চলে বোতল ছোড়াছুড়ি, ইটবৃষ্টি।রবিবারও উত্তেজনা বহাল ছিল ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানা এলাকায়।দুপুরের পর একবালপুর থানা ঘেরাও করে ক্ষিপ্ত জনতা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।টহল দেয় র্যাফ।তারপরও উত্তেজনা অব্যাহত।
সোমবার সকালেও চালানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি।মূলত আগেই জানা গিয়েছিল মোমিনপুরের উত্তপ্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।সেইমতো সোমবার সকাল এগারোটা নাগাদ নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে মোমিনপুরের উদ্দ্যেশ্যে রওনা দেন তিনি।কিন্তু অভিযোগ,চিংড়িঘাটায় গার্ডরেল দিয়ে রাস্তা ঘিরে দেওয়া হয়।মোমিনপুর যেতে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে। তাতেই মেজাজ হারান সুকান্ত।পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েও পড়েন তিনি।এরপরই আটক করা হয় সুকান্তকে।প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
১৪৪ ধারা জারি না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে যেতে বাধা দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন তোলেন সুকান্ত। তাঁকে আটক করার পর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।এবং তাঁর সঙ্গে থাকা রাজ্যের দলীয় সচিব উমের রাই এবং বিজেপি নেতা আরকে হান্ডাকেও লালবাজারের লকআপে নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মোমিনপুরের বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে বাধা দেওয়া হয়েছে।এদিকে, অশান্তির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যপাল লা গণেশন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।টুইটে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উষ্মা প্রকাশও করেন তিনি।