উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেকেই মনে করেন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রিন টি-ই সবচেয়ে কার্যকর পানীয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এমন আরও কিছু প্রাকৃতিক পানীয় রয়েছে, যেগুলি রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— কোনও পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি এই পানীয়গুলি উপকারী হতে পারে।
১) জবার চা
জবা ফুলের তৈরি চা বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। গরম কিংবা ঠান্ডা— দুই ভাবেই এই চা পান করা যায়। জবায় থাকা পলিফেনল রক্তনালিকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে, ফলে রক্ত সঞ্চালন সহজ হয়। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। শুধু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ নয়, কোলেস্টেরল কমানো, হজমশক্তি উন্নত করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও এই চা উপকারী বলে মনে করা হয়। যাঁরা ক্যাফিন এড়িয়ে চলতে চান, তাঁদের জন্যও এটি একটি ভাল বিকল্প।
২) বেদানার রস
বেদানা বা ডালিম পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেদানার রস রক্তনালির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়ক হতে পারে, ফলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে বাজারে পাওয়া অতিরিক্ত চিনি মেশানো জুসের বদলে বাড়িতে তৈরি টাটকা বেদানার রস পান করাই বেশি উপকারী।
৩) বিটের রস
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিটের রসের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। বিটে থাকা ডায়েটারি নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। এই উপাদান রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি বিটের রস শরীরচর্চার সময় কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ এটি দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই শুধু খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর না করে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
Image source-Google