২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি অনিবার্য—এমনই দৃপ্ত দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বিজেপি যে রাজনৈতিক দিশা দেখিয়েছে, সেই পথেই যদি বাংলার মানুষ এগিয়ে যান, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায় নিশ্চিত। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১০০-র নীচে নেমে আসবে এবং বিজেপি অন্তত ২০০টি আসনে জয়লাভ করবে।
রাজ্য বাজেটে ঘোষিত বেকার ভাতা প্রকল্পকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও নারী নিরাপত্তা-সহ একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ লাইনে দাঁড়াবেন, তাতেই প্রকাশ্যে চলে আসবে রাজ্যে বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র। কত মানুষ কাজহীন এবং তৃণমূল সরকারের আমলে কতজন দুর্নীতির শিকার—তা আর আড়াল থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সমস্ত সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। ভবানীপুরে তাঁকে পরাজিত করা এবং তাঁর হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য—এবং সেই পথ ইতিমধ্যেই বিজেপি দেখিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা।
এই প্রসঙ্গে ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তরবঙ্গে যে ভোটপ্রবণতা দেখা গিয়েছে, তা যদি গোটা রাজ্যে প্রতিফলিত হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি অনিবার্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও যদি একই ধারা বজায় থাকে, তবে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ডবল ডিজিটে নেমে আসতে বাধ্য—এমনই মত তাঁর।
বেকার যুবকদের জন্য চালু ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, কোনও শিক্ষিত বেকারের দৈনিক সম্মানিক কীভাবে মাত্র ৫০ টাকা হতে পারে? তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে এক লক্ষ বেকারকে মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, সেই প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান যুবসাথী প্রকল্প আদতে একটি ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
চাকরির প্রশ্নে রাজ্য সরকারকে আরও কোণঠাসা করে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, রাজ্যের ৫১টি কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্রে কার্যত তালা ঝুলছে। চাকরি চুরির অভিযোগে সরকার ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে অভিযুক্ত, সেই কারণেই বাজেটে নতুন নিয়োগের কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও দাবি তাঁর। কর্মসংস্থানের পথ পরিহার করে রাজ্য সরকার ক্রমশ ভাতা-নির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে চলেছে—এমন অভিযোগেই আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী।