টেলিভিশনের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রেখে ধীরে ধীরে বড়পর্দা ও ওটিটিতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন শেফালি শাহ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম বিয়ে, দীর্ঘ টানাপড়েন এবং বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে খোলাখুলি মতামত জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

 

গুজরাতি থিয়েটারের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই যুক্ত ছিলেন শেফালি। ১৯৯৩ সালে হিন্দি ধারাবাহিকের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবন। সেই সময়েই বদলে যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও। ‘হসরতে’ নামের ধারাবাহিকে সহ-অভিনেতা হর্ষ ছায়ার সঙ্গে আলাপ থেকে জন্ম নেয় প্রেম। অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্ক পরিণতি পায় বিয়েতে এবং ১৯৯৪ সালে হর্ষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন শেফালি।

 

বিয়ের পর সংসার সুখের হলেও সেই সুখ বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি দু’জন। ধীরে ধীরে সম্পর্কে জমতে থাকে অশান্তি। বহু চেষ্টা করেও পরিস্থিতি বদলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন শেফালি। তাঁর কথায়, এমন সম্পর্কে থাকা সম্ভব নয় যেখানে নিজের মূল্যবোধ অবহেলিত হয়। নিজের সুখ-শান্তিকে অগ্রাধিকার দিতেই প্রথম বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয় শেফালি ও হর্ষের।

 

বিচ্ছেদের পর কিছুদিন একা থেকেছেন অভিনেত্রী। এরপরই তাঁর জীবনে আসেন পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহ। কাজের সূত্রেই আলাপ, পরে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গাঢ় হয়। বিপুলের ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শন শেফালিকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল—এমনটাই জানান অভিনেত্রী। প্রথম সাক্ষাতেই বিপুলের প্রতি একটি বিশেষ টান অনুভব করেছিলেন তিনি।

 

২০০০ সালেই দ্বিতীয় বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শেফালি ও বিপুল। কোনও জাঁকজমক ছিল না সেই অনুষ্ঠানে—নিজেদের মতো করেই সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সারেন দু’জনে। সাজপোশাক থেকে অনুষ্ঠানের খাবার—সব ব্যবস্থাই করেছিলেন নিজেরাই। বিয়ের পর জন্ম নেয় তাঁদের দুই পুত্রসন্তান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাম্পত্য জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন এই তারকা দম্পতি।

 

বিয়ের পর বিপুলের পরিচালনায় ‘ওয়াক্ত’ সহ একাধিক ছবিতে এবং ‘হিউম্যান’ মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজে নজরকাড়া অভিনয় করেছেন শেফালি। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আজ তিনি বেশ স্থিতিশীল এবং আত্মবিশ্বাসী—এমনটাই জানান অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: Recipe: বছরের শুরুতে বানিয়ে নিন চিংড়ির পাটিসাপটা

Image source-Google

By Torsha