শীতের সময়ে বাজারে যে টাটকা বিট পাওয়া যায়, তা শুধু স্বাস্থ্য নয়, ত্বকের যত্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শুষ্কতা, উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া বা ব্রণ—শীতে ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান মিলতে পারে এই লাল রঙের সব্জি থেকেই। ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে বিটের রস স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের যত্ন নেয়, দেয় উজ্জ্বলতা ও সজীবতা।

 

রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে

 

ত্বকের অনেক সমস্যার শিকড় লুকিয়ে থাকে রক্তে জমা বিভিন্ন টক্সিনে। বিটের রস স্বাভাবিক ব্লাড পিউরিফায়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। ১টি বিটের সঙ্গে ১টি গাজর বা শসা/আপেল, অল্প আদা ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ব্লেন্ড করে সকালে খালি পেটে পান করলে শরীর থেকে দূষিত উপাদান বের হতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হতে পারে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ, উজ্জ্বল এবং ব্রণ কম দেখা দেয়।

 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে

 

বিটের রসের সঙ্গে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের নিস্প্রভ ভাব, দাগছোপ বা কালচে ভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং ত্বককে করে তুলতে পারে আরও উজ্জ্বল দেখাতে।

 

চোখের নীচের কালি কমাতে

 

বিটের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল মিশিয়ে চোখের নীচে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে ক্লান্তি কমতে পারে। এতে চোখের নীচের কালচে ভাব ও ফুলে থাকা অংশ কমানোর উপকার মিলতে পারে।

 

ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনতে

 

রাতে শুতে যাওয়ার আগে বিটের রসের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এটি ঠোঁটের কালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে এবং ঠোঁটকে দিতে পারে স্বাভাবিক গোলাপি আভা।

 

অ্যান্টি-এজিং ফেস প্যাক

 

২ চামচ বিটের রসের সঙ্গে ১ চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে টানটান রাখতে সহায়ক হতে পারে।

 

কাদের সতর্ক থাকা উচিত

 

যাঁদের ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে বা যাঁরা ডায়াবিটিসে ভুগছেন, তাঁদের বিটের রস পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তবে ত্বকে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার সাধারণত সমস্যা সৃষ্টি করে না।

 

শীতের ত্বক যত্নে বিটের এই সহজ ব্যবহারগুলো চেষ্টা করতে পারেন। তবে নতুন কিছু ব্যবহার শুরু করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া সব সময়ই নিরাপদ।

By Torsha