এজরা স্ট্রিটে (Ezra Street) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবারও সামনে এল বহুতলের নিরাপত্তা ঘাটতি ও সম্ভাব্য অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ। আগুন নেভানোর কাজ শেষ হতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। বড়বাজারের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় এমন আগুন লাগার পর, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ব্যবসায়ী সকলেই।
পরিদর্শন শেষে মেয়র (Firhad Hakim) জানান, বহুতলের ভিতরে এলোমেলোভাবে থাকা অসংখ্য বৈদ্যুতিন তারই বিপদের অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি বলেন,“সিইএসসি, দমকল, ব্যবসায়ী সমিতি, পুরসভা এবং পুলিশ সবাইকে নিয়ে আমি বৈঠক ডাকব। বড়বাজারে যাতে ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলতে পারে এবং দমকলের যাতায়াতে কোনও বাধা না থাকে, সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”
পুরনো এই বহুতলে আগুন লাগার ইতিহাস নতুন নয়। স্থানীয় কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক দাবি করেছেন, গত কয়েক দশকে কমপক্ষে বাইশবার আগুন লেগেছে সেখানে। তাঁর ক্ষোভ, প্রশাসনকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “কাগজপত্রে সব নথি রয়েছে। বারবার জানিয়েছি, তবু কেউ গুরুত্ব দেয়নি।”
তবে এই অভিযোগ সোজাসুজি মানতে নারাজ মেয়র। তাঁর বক্তব্য, বহুতলে অবৈধ নির্মাণ রয়েছে কি না, সেটি পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ তদন্ত না করা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ফিরহাদ বলেন, “একশো-দেড়শো বছরের পুরনো বাড়ি। কীটা আইনসঙ্গত আর কীটা বেআইনি, এখনই বলা যাবে না। তদন্তে অবৈধতার প্রমাণ মিললে অবশ্যই ভেঙে ফেলা হবে।”
অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কতটা হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকার কী সাহায্য করবে— এমন প্রশ্নে মেয়র জানান, ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। তারপর নেওয়া হবে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “ব্যবসা করুন, সরকার পাশে আছে। তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় একের পর এক আগুন লাগার ঘটনায় ফের আলোচনায় এসেছে পুরনো, সংকীর্ণ ও অতিরিক্ত দখলদারিতে ভরপুর বহুতলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এজরা স্ট্রিটের এই ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও প্রবল করে তুলল।
আরও পড়ুন: Congress: বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মোড়! বিজেপি ছাড়লেন অমল আচার্য, ফিরলেন কংগ্রেসে