সোমবার সন্ধ্যা নামতেই দিল্লির (Delhi) ঐতিহাসিক লালকেল্লা চত্বর রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইকো ভ্যান হঠাৎই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একের পর এক গাড়িতে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আহত বহু। আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দিল্লির (Delhi) এই অংশটিকে ‘হাই সিকিউরিটি জোন’ বলা হয়। তাই এমন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শহরে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষজন ছুটতে থাকেন এদিক-ওদিক। দমকল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে হাত দেয়।
দমকলের এক কর্তা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ প্রথম ফোন আসে কন্ট্রোল রুমে। তখনই জানা যায়, একটি ইকো ভ্যান বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরেছে আরও কয়েকটি গাড়িতে। প্রায় ১৫টি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ভস্মীভূত হয় ৫ থেকে ৬টি গাড়ি। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের দোকান ও লাইটপোস্টের কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। ভাঙা কাঁচের আঘাতে বহু মানুষ আহত হন। অন্তত তিনজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বিস্ফোরণটি ইকো ভ্যানের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও কারণ জানতে ইতিমধ্যেই ফরেনসিক এবং টেকনিক্যাল টিম তদন্তে নেমেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর বিশেষ দলও।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজধানী জুড়ে জারি করা হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’। দিল্লি (Delhi) পুলিশের স্পেশাল সেল ও জ্যেষ্ঠ আধিকারিকরা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। অন্যদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মুম্বই ও মহারাষ্ট্র জুড়েও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে, শুরু হয়েছে সন্দেহভাজনদের খোঁজ।বিস্ফোরণের পেছনে কোনও সংগঠিত নাশকতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রাজধানীর বুকেই এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে।
আরও পড়ুন: Arjun Singh: ‘হিন্দুদের বাঁচাতে অস্ত্র ধরুন’, অর্জুনের মন্তব্যে তুফান রাজনীতিতে