ঋত্বিক ঘটকের সব ছবি তাঁর ভাল লাগে না— অকপট স্বীকারোক্তি অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এত অন্য রকম ভাবে গল্প বলা যায়, সেটাই একটা ধাক্কা। ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা দেখতে বসে সত্যি যেন একটা চড় খেতে হয়।”

ঋত্বিকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নেন পরমব্রত। সেখানে তিনি বলেন, “ছবি চলা বা হাততালি পাওয়া ছাড়াও পরিচালকের কাজের উদ্দেশ্য অনেক বড় হতে পারে। সত্যিটা যখন চপেটাঘাতের মতো ধরা দেয়, সেটা হজম করা সহজ নয়।”

নিজের পছন্দের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরমব্রত বলেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি গঠিত হয়েছে গল্পনির্ভর সিনেমায়। ছোটবেলা থেকে হলিউড দেখেই বড় হয়েছি। তাই গল্প বলাই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু সিনেমা কি শুধুই গল্প বলার মাধ্যম?”

পরমব্রতার মতে, ঋত্বিক ঘটক সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর ছবিতে কেবল নাটক নয়, আছে ইতিহাস, সমাজ, মানুষের ভাঙন ও বাস্তবতার নির্মম প্রকাশ। “ঋত্বিক ঘটক ছবির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন, কী ভাবে সভ্যতার ইতিহাস ভেঙে পড়েছে,” বলেন পরমব্রত।

আলোচনায় আসে সত্যজিৎ রায়ের প্রসঙ্গও। পরমব্রতা মনে করেন, “বাংলা ছবির ইতিহাসে এই দুই মহীরুহ— সত্যজিৎ আর ঋত্বিক। একদিকে রায় যেন সাধুসন্ত, যাঁর কোনও ভুল হয় না। অন্যদিকে ঘটক মানেই সমাজবিরোধী, মদ্যপ, কিন্তু প্রতিভাবান এক দার্শনিক।”

পরমব্রতার মতে, সত্যজিৎ রায় যেমন সূক্ষ্মভাবে সমাজ ও নারীচরিত্র ধরেছেন, তেমনই ঋত্বিক ঘটকও তাঁর সিনেমায় বাস্তবতার নির্মম রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। “আমি কখনওই ঋত্বিক ঘটকের মতো ছবি বানাতে পারব না,” স্বীকার করেছেন পরমব্রত, “এই সময়ের দর্শক যেমন ছবি চায়, আমি সেটাই বানাব।”

আরও পড়ুন: Arjun Singh: ‘হিন্দুদের বাঁচাতে অস্ত্র ধরুন’, অর্জুনের মন্তব্যে তুফান রাজনীতিতে

Image source-Google

 

By Torsha