স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার, কর সংস্কারের অভিঘাত একযোগে ছুঁতে চলেছে গোটা ১৪০ কোটি দেশবাসীকে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় শিল্প ও বণিক মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman GST) জানালেন, নতুন জিএসটি কাঠামো কেবল করনীতির সরলীকরণ নয়, বরং এটি এক অভূতপূর্ব সর্বজনীন অর্থনৈতিক সংস্কার, যার সুফল সমাজের প্রত্যেক স্তরে পৌঁছাবে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট—অতীতের আয়কর ছাড় বা কর্পোরেট কর সংশোধন কেবলমাত্র একটি সীমিত শ্রেণিকে সুবিধা দিয়েছে। কারণ আয়করদাতা জনগোষ্ঠী দেশের মোট জনসংখ্যার অল্প অংশ। কিন্তু পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি ধনী-দরিদ্র, গ্রামীণ-নগরবাসী সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। ফলে, এই করছাড়ের সুবিধা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছবে। নির্মলার দাবি, ‘‘অনেকে বলছেন, এই জিএসটি সংস্কার দীপাবলির উপহার। কিন্তু বাস্তবে, এটি বাংলার পুজো মাথায় রেখেই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

প্রসঙ্গত, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ মহালয়ার পরদিন থেকেই চালু হবে জিএসটির নতুন হার ও স্তর। শিল্প মহলের একাধিক প্রস্তাব থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বাংলার পুজোর ক্যালেন্ডারকেই দিন নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্মলা উল্লেখ করেন, ‘‘আমরা বলেছিলাম, পিতৃপক্ষ শেষে, মহালয়ার পরের দিনই হবে নতুন জিএসটির প্রথম শুভ সূচনা।’’

নতুন কাঠামোয় বাংলার হস্তশিল্প ও কৃষিজ উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা মিলবে। শান্তিনিকেতনের হস্তশিল্প, বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া টেরাকোটা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মাদুর, বীরভূম-মুর্শিদাবাদের নকশি কাঁথা, পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ, দক্ষিণ দিনাজপুরের কাঠ ও শোলার মুখোশ, মালদা-মুর্শিদাবাদের আম এবং দার্জিলিঙের চা—সবকিছুই এবার জিএসটি ছাড়ের আওতায় আসছে। সেই সঙ্গে হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার পাটশিল্পও এই সুবিধা পাবে।

চলতি মাসের গোড়ায় অনুষ্ঠিত জিএসটি পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জিএসটি ২.০ কাঠামোয় কার্যত মাত্র দুটি হার থাকবে, পাঁচ শতাংশ এবং আঠারো শতাংশ। ১২ এবং ২৮ শতাংশের করহার বাতিল করা হয়েছে। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর করহার কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ শতাংশ বা শূন্যে। তবে সিগারেট, তামাকজাত দ্রব্য এবং বিলাসবহুল সামগ্রীকে রাখা হয়েছে বিশেষ চল্লিশ শতাংশ স্ল্যাবে। নির্মলা সীতারমণ দাবি করেন, ‘‘এই কাঠামো কর ব্যবস্থাকে এক লহমায় সরল ও স্বচ্ছ করে তুলেছে।’’

জাতীয় গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত ওই সভায় নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman GST) আরও উল্লেখ করেন, মোদী সরকারের আমলে কর হস্তান্তর ও অনুদান বাবদ বাংলার প্রাপ্ত অর্থ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বতন ইউপিএ সরকারের তুলনায় অনেক বেশি। সব মিলিয়ে, কর-সংস্কারের সর্বজনীনতা, বাংলার উৎসব সংস্কৃতির প্রভাব এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য—সবই প্রতিফলিত হল এই ঘোষণায়। নতুন জিএসটি কাঠামো তাই নিছক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং এক প্রতীকী বার্তাও বটে।

 

আরো দেখুন:Sukanta Majumdar: ‘বিরোধিতা থেকে উদ্যোগে’, পুজোর ময়দানে এবার নতুন ইনিংস সুকান্ত মজুমদারের