বিহারে ‘ভোটাধিকার যাত্রা’র মঞ্চ থেকে যখন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ঘোষণা করেন, “ভোট চুরি নিয়ে এবার হাইড্রোজেন বোমা ফাটবে,” তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এটা নিছকই একটি রাজনৈতিক উক্তি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malobyo) পাল্টা দাবি করে বসলেন, “যারা ভোট চুরির অভিযোগ করছেন, তারাই ভোট চুরি করছেন।” নিশানায় কংগ্রেস (Congress) মুখপাত্র পবন খেরা (Pawan Khera)।

মালব্যর অভিযোগ, দিল্লির দুটি পৃথক কেন্দ্র — জঙ্গপুরা ও নতুন দিল্লির ভোটার তালিকায় রয়েছে পবন খেরার (Pawan Khera) নাম। এমনকি তার দুটি পৃথক ভোটার কার্ডের নম্বরও এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে আনেন তিনি। যা সরাসরি জনপ্রতিনিধি আইন লঙ্ঘনের সামিল। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং পবন খেরাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, একই সময়ে একজন ভোটারের দুটি সক্রিয় ভোটার আইডি থাকা আইনত অপরাধ, যার জন্য এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

অভিযুক্ত কংগ্রেস মুখপাত্র অবশ্য নিজের সাফাইয়ে দায় চাপিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের উপরেই। তার দাবি, ২০১৬ সালে তিনি নতুন দিল্লি কেন্দ্র থেকে স্থানান্তরিত হন এবং তৎকালীন নিয়ম মেনে পুরনো কেন্দ্র থেকে নিজের নাম মুছে ফেলার আবেদনও করেন। তা সত্ত্বেও আজও দুটি আইডি সচল থাকায় তিনি কমিশনের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।

রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, ভোট সংস্কারের কথা বলে আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন রাহুল গান্ধী ও তার দল। অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবিরের পাল্টা যুক্তি — বিজেপি আসল ভোট জালিয়াতির প্রশ্ন থেকে নজর ঘোরাতেই এইসব ইস্যু উত্থাপন করছে। পবন খেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার প্রভাব শুধু তাঁর উপরেই নয়, কংগ্রেসের অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে — বিশেষ করে ভোটের মুখে যখন দলটি জনগণের কাছে নিজেদের ‘ভোট রক্ষাকারী’ রূপে তুলে ধরতে চাইছে।

 

আরও পড়ুন: Ahana Dutta: কটাক্ষের জবাব দিলেন অভিনেত্রী অহনা দত্ত

By Sk Rahul

Senior Editor of Newz24hours