বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে জুলাই মাস—ছাত্র আন্দোলনের নামে ফের দেখা দিল রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের নগ্ন রূপ। এক বছর আগের সেই আন্দোলনের স্মৃতি আজ আবার ফিরে এল ঢাকার রাজপথে। মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের মর্মান্তিক মৃত্যু ও প্রশাসনের চরম অবহেলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীজুড়ে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরেও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল না করে প্রশাসন প্রমাণ করেছে, তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবন ও সুরক্ষার চেয়ে “রুটিন” বেশি মূল্যবান। রাত তিনটায় হঠাৎ করে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসায় বিভ্রান্ত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। আন্দোলনের নেতৃত্ব নেয় বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রী, যাদের দাবি—দায়িত্বজ্ঞানহীন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সিদ্দিক জোবায়েরকে পদত্যাগ করতে হবে।
সচিবালয়ের সামনে ছাত্রছাত্রীরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছিলেন, তখনই পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশের এমন নিষ্ঠুর আচরণে আহত হয়েছেন অন্তত ৭৫ জন ছাত্রছাত্রী, যাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য—“আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব দাও।”
রাজপথে এই বিক্ষোভ কেবল একটি দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থা, পরীক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলা, এবং জবাবদিহিহীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ এক প্রতীকী প্রতিবাদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্লিপ্ততা, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের একগুঁয়ে মনোভাব—সব মিলিয়ে এই আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক মাত্রা নিচ্ছে। সচিবালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সরকার প্রমাণ করেছে, তারা জনগণের কণ্ঠরোধেই বেশি আগ্রহী।
শিক্ষার্থীরা আজ প্রশ্ন তুলছে—এই সরকারের শিক্ষানীতি আসলে কার স্বার্থে? রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করলো, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছাত্রসমাজ আজও সর্বপ্রথম কণ্ঠস্বর।