প্রায় ১১ মাস কাজের বাইরে থাকার পর দেবের হাত ধরেই ফের অভিনয়ে ফিরেছিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ‘রঘু ডাকাত’-এর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে টলিউডে অনির্বাণকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। তাঁকে কোনও ছবিতে নেওয়া হলে সেই ছবিতে কাজ না করার কথা জানিয়েছিলেন টেকনিশিয়ানদের একাংশ। ফলে অনির্বাণকে ছবিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালক-প্রযোজকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল দ্বিধা।
শেষ পর্যন্ত দেবের ‘দেশু৭’ ছবির হাত ধরে ফের কাজে ফেরেন অনির্বাণ। বর্তমানে অবশ্য একাধিক ছবির কাজে ব্যস্ত অভিনেতা। তবে তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেবকেও বেশ কিছু ঝুঁকি নিতে হয়েছিল। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেতা।
দেব জানান, প্রথম থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল, অনির্বাণের মতো প্রতিভাবান অভিনেতাকে দীর্ঘ সময় কাজ থেকে দূরে রাখা ঠিক নয়। একজন শিল্পী অভিনয় না করলে শুধু তাঁরই নয়, দর্শকদেরও ক্ষতি হয়। কিন্তু সেই সময় অনির্বাণকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে টলিউডের একটি অংশের আপত্তি ছিল।
অভিনেতার কথায়, সেই সময়ে অনেক পরিচালক-প্রযোজকই অপেক্ষা করছিলেন, দেব শেষ পর্যন্ত অনির্বাণকে ছবিতে নেওয়ার সাহস দেখান কি না। দেবও জানতেন, অনির্বাণকে সুযোগ দিলে তাঁর নিজের উপরেও চাপ আসতে পারে। এমনকি তাঁর ছবিতে কাজ করতে টেকনিশিয়ানদের একাংশ রাজি নাও হতে পারেন—এই সম্ভাবনাও মাথায় রেখেছিলেন তিনি।
তাই আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভেবে রেখেছিলেন দেব। তাঁর কথায়, টলিউডের টেকনিশিয়ানরা কাজ করতে না চাইলে এসআরএফটিআই-এর একটি টিমকে নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। অর্থাৎ, অনির্বাণকে ছবিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য নিজের ব্যাকআপ প্ল্যানও তৈরি রেখেছিলেন তিনি।
দেব এদিন বলেন, “ভোটের রেজাল্টটা অন্য রকম না হলে, আমিও ব্যান হতাম। উনি (স্বরূপ বিশ্বাস) যথেষ্ট পাওয়ারফুল লোক। আমার ব্যাকআপ প্ল্যান তৈরি ছিল। আমার পিছনে এসআরএফটিআই-এর টিম ছিল।”
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। অনির্বাণ আবার নিয়মিত অভিনয়ে ফিরেছেন এবং একাধিক কাজও করেছেন। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর ফের নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরতে পেরেছেন অভিনেতা।
আরও পড়ুন: ‘আমার ছেলে তৈরি, সুযোগ পেলেই দেশকে জেতাবে’, বৈভবকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাবা সঞ্জীব