ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, বিচ্ছেদের পর নতুন সম্পর্ক শুরু করার সময় কী ভাবে কন্যা ইমারা খানের সঙ্গে তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটনের পরিচয় করিয়েছিলেন।
২০০২ সালে ছোটবেলার বন্ধু অবন্তিকা মালিককে বিয়ে করেন ইমরান। দীর্ঘ দাম্পত্যের পর ২০১৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে অভিনেতার জীবনে আসেন লেখা ওয়াশিংটন। নতুন সম্পর্ক নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল লেখাকেও। তবে ইমরানের মতে, পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তাঁর কন্যা ইমারা। তাই সম্পর্কের পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর কাছে গোপন না রেখে খোলাখুলিভাবেই জানানো হয়েছিল।
অভিনেতা জানান, লেখা আগে থেকেই তাঁদের পরিবারের পরিচিত ছিলেন। ফলে ইমারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন ছিল না। বদলেছিল শুধু সম্পর্কের সমীকরণ। সেই পরিবর্তনটাই মেয়েকে স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি।
ইমরানের কথায়, কোনও বিষয় লুকিয়ে রাখলে সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয় না। তাই তিনি মনে করেন, বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের সঙ্গে বয়স অনুযায়ী খোলামেলা কথা বলা। কারণ, শিশুরা শুধু কথায় নয়, বড়দের আচরণ দেখেই জীবনের শিক্ষা নেয়।
তিনি আরও বলেন, বাবা হওয়ার পর তাঁর নিজের ভাবনাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। মেয়ের চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে শিখেছেন তিনি। ইমারার সঙ্গে সিনেমা বা কার্টুন দেখার সময় অনেক ক্ষেত্রেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, নারী চরিত্রকে সবসময় সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয় না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ভবিষ্যতে আরও সংবেদনশীল এবং ইতিবাচক নারী চরিত্রের গল্প বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
অভিনেতা আরও জানান, তিনি সচেতনভাবেই কন্যাকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখেন। একবার ইমারা তাঁকে প্রশ্ন করেছিল, মানুষ কেন তাঁর এত ছবি তোলে। তখন ইমরান সহজ ভাষায় বুঝিয়েছিলেন যে তিনি অভিনেতা বলেই মানুষ তাঁকে চেনে। তবে এখনও নিজের অভিনীত বেশিরভাগ ছবিই মেয়েকে দেখাননি তিনি। ইমারার কাছে তিনি এখনও একজন সাধারণ বাবা, যাঁকে মানুষ চিনে এবং শুভেচ্ছা জানায়।
সন্তানের প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকেও বিশেষ নজর দেন ইমরান। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা শেখানোর পাশাপাশি, পরিবারের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসকেই তিনি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি বলে মনে করেন। তাঁর মতে, সন্তানকে সত্যিটা জানানো এবং সম্মান দেওয়া— এই দু’টিই একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
Image source-Google