কখনও কনকনে ঠান্ডা, কখনও আবার তীব্র রোদ—আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনাই এখন নানা রোগের বাড়বাড়ন্তের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ এই সময়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার জেরে দাদ, হাজা, এগজ়িমা, স্ক্যাবিসের মতো চর্মরোগ যেমন বাড়ছে, তেমনই চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে হাম-পক্সের সংক্রমণও। তাই এই সময় শরীরের ভিতর থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি, বলছেন চিকিৎসকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চর্মরোগের পিছনে শুধু বাইরের সংক্রমণই দায়ী নয়। জিনগত প্রবণতা, পরিবেশগত প্রভাব, হরমোনের ওঠানামা, খাদ্যাভ্যাস ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ত্বকের সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ভিতর থেকে প্রদাহ কমানো এবং শরীর ডিটক্স করা খুব প্রয়োজন।
শীত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়ে এগজ়িমার সমস্যা অনেকেরই বেড়ে যায়। হাতে-পায়ে, কনুইয়ের কাছে কিংবা মুখে লালচে র্যাশ, চুলকানি, ফোস্কার মতো ক্ষত দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে ও পুরু। মাথার ত্বকেও র্যাশ দেখা যায়। এই সব সমস্যায় উপশম পেতে চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ ঘরোয়া পানীয়ের কথা বলছেন, যা নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেলে উপকার মিলতে পারে।
কী ভাবে বানাবেন এই পানীয়?
উপকরণ
৩–৪টি লবঙ্গ
১ চামচ মধু
আধ খানা পাতিলেবুর রস
১০–১২টি নিমপাতা
প্রণালী
লবঙ্গ সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে সেগুলি তুলে ভালো করে বেটে নিন। এক কাপ জল নিয়ে তাতে লবঙ্গ বাটা, মধু ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। নিমপাতাগুলি ধুয়ে বেটে তার রস ওই মিশ্রণে যোগ করুন। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে চায়ের বদলে এই পানীয় পান করুন।
নিয়মিত এই পানীয় খেলে শরীরের ভিতরের প্রদাহ কমতে পারে, লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং ত্বকের নানা সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে উপশম মিলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে কোনও গুরুতর সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Image source-Google