পাঁচ মাস পর আবার প্রিয় শহরে ফিরেছিলেন পরিচালক **সুজয় ঘোষ**। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলেও শহরের রাস্তাঘাট, স্মৃতি আর মানুষ—সব কিছুর সঙ্গেই যেন আবার একাত্ম হয়ে যান তিনি।
মুম্বই থেকে ফোনে আনন্দবাজার অনলাইনকে সুজয় বললেন,
> “কলকাতাকে আমি মিস করি না, কারণ কলকাতা আমার মধ্যেই আছে। আমার চিন্তাভাবনা, কাজ, লেখালিখির মধ্যেই এই শহরটা বেঁচে আছে।”
**‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র নস্টালজিয়া**
উৎসবে সুজয়ের অন্যতম প্রিয় সিনেমা **‘অরণ্যের দিনরাত্রি’**-র রেস্টোরড ভার্সন দেখেছেন তিনি। প্রেক্ষাগৃহে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হলে কথায় কথায় মনে পড়ে যায় সাহিত্যিক **সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের** প্রতি নিজের অনুরাগের কথা।
স্মিত হেসে বললেন,
> “আমি ওঁর অনেক লেখা লাইব্রেরিতে লুকিয়ে পড়েছি। পরে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র স্বত্ব চাইতে গেলে সুনীলদা নিজে কাগজে লিখে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এই নাও স্বত্ব।’ সেই কাগজটা এখনও যত্নে রেখেছি।”
*‘শহর বদলায় না, মানুষ বদলায়’*
কলকাতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তাঁর মত,
> “কোনও শহর বদলায় না, বদলায় মানুষ। হাওড়া ব্রিজ দেখে কলকাতাকে চেনা যায় না, ব্রিজে হাঁটছে যারা—তাদের সঙ্গে মিশলেই শহরটাকে চেনা যায়।”
**খাবারপ্রেমী কিন্তু রাঁধুনি নন**
নিজেকে খাদ্যরসিক বলেই মানেন সুজয়। লন্ডনে পড়ার সময় রান্না শেখা হয়নি, তবে কলকাতার খাবারের প্রতি টান আজও অটুট।
> “‘জিমিজ় কিচেন’, ‘সিরাজ়’-এর বিরিয়ানি বা রাস্তার ধারের ফুচকা—সবই আমার দুর্বলতা,” হাসতে হাসতে বললেন তিনি।
**মেয়ের চোখে কলকাতা**
কন্যা **দিয়া অন্নপূর্ণা ঘোষ** ‘বব বিশ্বাস’ ছবির শুটিং করেছিলেন কলকাতায়। বাবার মতে, মেয়ের দৃষ্টিতেই দেখা উচিত এই শহরকে—
> “আমি ওকে কীভাবে দেখবে সেটা বলতে চাই না। ওর ক্যামেরায়ই যেন দর্শক নিজের কলকাতা খুঁজে পান।”
**‘কলকাতা আমার ভেতরেই থেকে যায়’**
সুজয়ের কথায়,
> “কলকাতায় পা রাখলেই মনে হয়, কখনও ছেড়ে যাইনি। এই শহরটাই আমার গল্পের অনুপ্রেরণা।”
আরও পড়ুন: Vicky Kaushal: ‘ভাল কথার থেকেও যৌনতা বেশি দরকার’, মন্তব্যে চর্চায় ভিকি কৌশল! কী বললেন অভিনেতা?
Image source-Google