নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানানোর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবার ফোনালাপে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সঙ্গে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi Nepal call)। এই ফোনালাপে মোদী আশ্বাস দেন, সঙ্কটকালে ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন নেপালের পাশে থাকবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মোদী (Narendra Modi Nepal call) লিখেছেন, “নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনায় আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছি। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর প্রচেষ্টায় ভারতের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছি। পাশাপাশি আগামীকাল নেপালের জাতীয় দিবস উপলক্ষে তাঁকে এবং নেপালের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।”
উল্লেখ্য, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর প্রবল বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহর। যুব প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের জেরে পতন ঘটে কেপি শর্মা ওলির সরকারের। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। বিক্ষোভ চলাকালীন রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, সরকারি দফতর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমনকি শপিং কমপ্লেক্সেও অগ্নিসংযোগ ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, রাস্তায় ফের চলছে গাড়ি ও মানুষের আনাগোনা।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোকদিবস হিসেবে পালিত হবে এবং সেদিন সরকারি ছুটি থাকবে। পাশাপাশি বিক্ষোভে নিহতদের সম্মানে তৈরি হবে ‘জেন-জি মেমোরিয়াল পার্ক’। গত রবিবার কার্কি ঘোষণা করেছেন, আন্দোলনে প্রাণ হারানো সকলকে ‘শহিদ’ মর্যাদা দেওয়া হবে।
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সুশীলা কার্কির পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষিকা হিসেবে। পরে তিনি আইনজীবী হয়ে ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে আসীন হন। ২০১৬ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হন তিনি। এবার দেশের সঙ্কটকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্বভার নিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর পরিচিতি যথেষ্ট ভাল। ভারতের সাহায্য সবসময় নেপালের পাশে থেকেছে। তবে তিনি একথাও বলেন, “হাঁড়ি-কলসি একসঙ্গে থাকলে শব্দ হবেই, দেশের সম্পর্কেও তেমনটা স্বাভাবিক।”
ফলে একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার পরে নেপালে তৈরি হচ্ছে নতুন অধ্যায়, অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
আরো দেখুন:Election Commission response:‘ভুল ও ভিত্তিহীন’—রাহুলের ভোটচুরি দাবির জবাবে নির্বাচন কমিশন!