এজবাস্টনে ভারতের হয়ে ১০ উইকেট নেওয়ার পর ছোট ভাই আকাশদীপ সিংহ (Akashdeep Singh) সেই সাফল্য উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত দিদিকে। দিদি অখণ্ড জ্যোতি সিংহ আজও নিজের অসুস্থতা লুকিয়ে রাখেন, কিন্তু ভাইয়ের কৃতিত্বে আবেগে ভেসে গিয়েছেন।

 

বাবা ও বড় দাদার অকালপ্রয়াণের পর ছোট ভাই আকাশদীপই (Akashdeep Singh) পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও পরিবারের পাশে থেকেছেন। আইপিএলের সময়েও দিদিকে হাসপাতালে দেখে আসতেন।

 

‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যোতি বলেন, “ভাইকে শুধু একটা কথাই বলেছি—দেশকে জেতা, আমার জন্য চিন্তা করিস না। ও আমার গর্ব।”

 

জ্যোতির ক্যানসার এখন তৃতীয় পর্যায়ে, অন্তত ছ’মাস চলবে চিকিৎসা। আকাশদীপের প্রতিটি উইকেটেই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল পরিবার। সবাই একসঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন, চিৎকার-হাততালিতে ভরিয়ে দিয়েছেন ঘর। জ্যোতি জানান, পাশের বাড়ির লোকজন অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের উৎসাহ দেখে।

 

আকাশদীপ টিভি সাক্ষাৎকারে যখন দিদির অসুস্থতার কথা বললেন, তখন জ্যোতি চমকে গিয়েছিলেন। বলেন, “আমি ভাবিনি ও এতটা প্রকাশ্যে বলবে। তবে রাগ করিনি। ওর আবেগটাই বড়।”

 

খেলার পর দু’বার ভিডিয়ো কলে কথা হয়েছে ভাই-বোনের। আকাশদীপ জানান, আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, কারণ জ্যোতির লড়াই আর ভালবাসা তাঁকে অনুপ্রাণিত করে।

 

দিদি বলেন, “বাবা আর দাদা নেই। এখন আকাশই আমাদের অভিভাবক। ও কিছু লুকিয়ে করে না। সত্যিই, এমন ভাই ক’জন পায়?”

 

ইংল্যান্ড থেকে ফিরলে আকাশদীপকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতে চান জ্যোতি। তাঁর হাতের দই বড়া আর সবজি আকাশদীপের খুব প্রিয়।

 

এজবাস্টনের টেস্টে আকাশদীপের এই ১০ উইকেট কোনও ভারতীয় বোলারের ইংল্যান্ডে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এখনও তিনটি টেস্ট বাকি। দিদির স্বপ্ন—ভাই আরও উইকেট নিক, আরও ম্যাচ জিতুক, এবং ভারতের গৌরব হয়ে উঠুক।

আরও পড়ুন: Kareena Kapoor: করিনার মন্তব্য ও ছবি ঘিরে বিতর্ক, পাক সংযোগে ফের আলোচনায়

Image source-Google

By Torsha