চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে ভেঙে যায় পা, কাটা পড়ে আঙ্গুল! নার্সিংহোমের বিল না মেটাতে পারায় নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না পরিযায়ী শ্রমিক! সে কারণে বকেয়া বিলের টাকা জোগাতে দুয়ারে দুয়ারে সাহায্যের আবেদন অসহায় শাশুড়ি ও মায়ের! সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের। যে ঘটনা চোখে জল এনে দেবে আপনার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পিপলা গ্রামের বাসিন্দা তথা হতদরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিক বছর চল্লিশের গণেশ দাস প্রায় এক মাস আগে ভিন রাজ্য দিল্লি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু ভুল ট্রেনে উঠে পড়ায় বাড়ির নিকটবর্তী হরিশ্চন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশনে সেই ট্রেনের স্টপেজ ছিল না, তাই চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে ঘটে যায় এক ভয়ানক দুর্ঘটনা। গণেশ দাসের একটি পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায় এবং দুটি আঙ্গুল কাটা পড়ে। এরপর তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিও যাওয়া হলে সেখান থেকে জেলার মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানেও সঠিক চিকিৎসা না হলে পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারের পুর্নিয়ার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যায় ওই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের লোকেরা। দীর্ঘ একমাস চিকিৎসার পর সেই শ্রমিক সুস্থ হয়ে ওঠেন ঠিকই, কিন্তু নার্সিংহোমের বিল পৌঁছে যায় লক্ষের ঘরে। যা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজনের পক্ষে, আর তাই ওই পরিযায়ী শ্রমিককে নার্সিংহোম থেকে ছুটি দিচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আর এখন বকেয়া বিলের টাকা জোগাড় করতে হন্যে হয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন শাশুড়ি ও মা। এমনকি, স্থানীয় পঞ্চায়েত নেতা ও জন-প্রতিনিধিদের কাছেও গিয়েছেন তারা, কিন্তু তাদের কাছ থেকে সাহায্যের বদলে মিলেছে প্রতিশ্রুতি। এলাকাবাসী, ছোট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় পুলিশ অর্থ সাহায্য করলেও সেই অর্থ বকেয়া বিলের থেকে অনেকটাই কম। কার্যত অসহায় অবস্থা পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের।
জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আবেদন করলেও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাননি ওই শ্রমিকের পরিবার। এদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, ‘স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হল রাজ্য সরকারের ভাওতাবাজি। যদি রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রের আয়ুষ্মান যোজনার সুবিধা পেত তবে এমন অবস্থা হত না।’ যদিও এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা নিম্নরুচির সমান এমনটাই দাবী তৃণমূলের। পাশপাশি তৃণমূলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পাশে থাকার। অন্যদিকে, রাজ্যের কর্মসংস্থান সমস্যা নিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। তবে এখন প্রশ্ন, গণেশ দাসের পরিবার কি বাস্তবে সাহায্য পাবে? কবে বাড়ি ফিরবেন গনেশ? বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে গনেশের দুই নাবালক সন্তান।